মূল সংবাদে যান
রাজনীতি

বাংলাদেশে আশা নিরাশার দোলাচলে বিপ্লবের এক বছর

২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশে ১৫ বছরের শেখ হাসিনা শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
বাংলাদেশে আশা নিরাশার দোলাচলে বিপ্লবের এক বছর

দেশের মানুষ নতুন গণতন্ত্র, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র এবং ন্যায়বিচারের আশায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছিল। কিন্তু এক বছর পর সেই আশার অনেকটাই ম্লান—সংস্কারের ধীরগতি, ন্যায়বিচারের বিলম্ব, রাজনৈতিক বিভাজন ও অর্থনৈতিক স্থবিরতা মানুষকে হতাশ করছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও পরিবর্তনের ধীরগতিতে জনগণ প্রায় অস্থির। শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে কিছুটা স্থিতি ফিরলেও রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়া মন্থর। ১১টি কমিশন গঠিত হলেও (নির্বাচন, বিচারব্যবস্থা, পুলিশ সংস্কার ইত্যাদি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি ধীর। ছাত্রনেতারা দ্রুত গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন—বিশেষ করে গত বছরের আন্দোলনে নিহতদের জন্য ন্যায়বিচার।

আবু সাঈদের ভাই রমজান আলী বলেন, "আমরা ভেবেছিলাম বৈষম্য কমবে, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, হত্যাকারীরা শাস্তি পাবে। কিন্তু কিছুই হয়নি।"

এরইমধ্যে নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠছে ক্রমশঃ। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হলেও রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতবিরোধ রয়ে গেছে। বিএনপি বলছে—অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ শুধু মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন। জামায়াতে ইসলামি ও অন্যান্য দল বলছে—নির্বাচনের আগে আরও সংস্কার দরকার।

বাংলাদেশে এখনো প্রায় ৬০টি রাজনৈতিক দল সক্রিয়। নতুন দলগুলোর মধ্যে ছাত্র আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলামের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সম্প্রতি মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

ন্যায়বিচারের বিলম্ব ও মানবাধিকার প্রশ্নের মধ্য রয়েছে - ২০২৪ সালের জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের দোষীদের বিচারের অগ্রগতি ধীর। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার গতি নেই বললেই চলে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে—অস্থায়ী সরকার স্পষ্ট রোডম্যাপ দিতে পারছে না, বরং রাজনৈতিক প্রতিশোধের দিকে মনোযোগ বেশি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি ২০২৩ সালের ৫.৮ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে ৪.২ শতাংশে নেমে এসেছে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মতে ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, ব্যয় সংকোচন চলছে।

এসি ও ফ্রিজ মেরামতের ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, "মানুষের কাছে টাকা নেই, আর যাদের আছে তারাও খরচ করছেন না।"

ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ও তরুণদের ভূমিকা হিসেবে বাংলাদেশের গড় বয়স অনুযায়ী ২৬ বছরের তরুণ ভোটাররা আগামী নির্বাচনে প্রধান ভূমিকা রাখবে। কিন্তু তরুণ প্রজন্মের অনেকেই গণতন্ত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হয়ে বড় হয়েছে। নারী অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ পরিলক্ষিত, প্রতিবাদে সক্রিয় থাকা নারীরা এখন জনসমক্ষে অনুপস্থিত।

সম্পর্কিত বিষয়

  • গণঅভ্যুত্থান
  • বাংলাদেশ

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন