দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর ৯৮ শতাংশ কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্দরের জাহাজজট ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু নেতিবাচক তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় চবকের পক্ষ থেকে সচিবের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়।
চবকের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্দরের বিদ্যমান ইয়ার্ড স্পেস, সরঞ্জামের প্রাপ্যতা, জাহাজের গড় ফ্রিকোয়েন্সি, স্পেস ইউটিলাইজেশন, এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ বিবেচনায় ধরলে, ৯৫ থেকে ১০৫টি জাহাজ নিয়মিত ফিডার পোর্টে চলাচল করলেই আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে এবং বন্দরের সক্ষমতা সর্বোচ্চ ব্যবহৃত হয়। যুদ্ধোত্তেজনাকবলিত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও সি-ট্রাংক রুটে প্রতিবন্ধকতার কারণে সাময়িকভাবে আমদানি কনটেইনার ফিডার পোর্টগুলোতে আটকে যায়, যার প্রেক্ষিতে কিছু অপারেটর চবকের কাছে অতিরিক্ত জাহাজ চলাচলের অনুমতি চায়।
চবক সেই সময় বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দেশের বাণিজ্য স্বার্থে ২০ থেকে ২২টি অতিরিক্ত জাহাজকে সাময়িক অনুমোদন দেয়। কিন্তু ব্যাকলগ পরিষ্কার হলেও কিছু অপারেটর এখনো ওই অতিরিক্ত জাহাজ প্রত্যাহার করেননি। ফলে বর্তমানে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর ও ফিডার রুটে চলাচল করছে, যা আদর্শ সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। এর ফলেই বন্দরে জাহাজের অপেক্ষমান সময় বেড়ে গেছে, জেটিতে কার্যক্রম ধীরগতির হচ্ছে, এবং আমদানি-রপ্তানিকারকদের শিপমেন্টে সাময়িক বিলম্ব ঘটছে। উপরন্তু, জাহাজ বেশি হলেও এগুলোতে কন্টেইনার পূর্ণমাত্রায় না থাকায় স্পেস ইউটিলাইজেশন হ্রাস পাচ্ছে, যা অর্থনৈতিক দিক থেকেও অপ্রত্যাশিত।
এই বাস্তবতায়, গত ২০ জুলাই ২০২৫ তারিখে চবক, বাংলাদেশ কন্টেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ) এবং বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএএ) এর মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—বর্তমান জাহাজের সংখ্যা যৌক্তিক সীমায় নামিয়ে আনার জন্য বিসিএসএ ও বিএসএএ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো সুপারিশ আসেনি। ফলে দুই সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়, যার কার্যক্রম চলমান।
চবকের দাবি, এই সমন্বয় প্রক্রিয়া চলাকালেই বিভিন্ন মহল বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছে, যা ‘অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত’। বন্দরের চলমান পরিস্থিতি ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশের পরিপন্থী নয় বরং সাময়িক ভারসাম্যহীনতা—যেটি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো মিলে সমাধানের দিকে এগোচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, “আমরা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তারা মূলত সংশ্লিষ্টতা ও বাস্তবতা উপেক্ষা করছেন।” একই সঙ্গে সকল মহলকে দায়িত্বশীল আচরণের অনুরোধ জানিয়ে চবক আবারও আহ্বান জানিয়েছে, “বন্দর ব্যবস্থাপনা নিয়ে নেতিবাচক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন থেকে বিরত থাকুন।”
