দীর্ঘ ৩৯ বছর তথা ‘১৯৮৬ সালের পর এবারই প্রথম ট্যারিফ বাড়ানো হয়। এতে রাজস্ব আয় বাড়বে, তবে আমদানি-রপ্তানিতে খরচ বাড়বে ব্যবসায়ীদের।’ শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন শেষে ট্যারিফ বাড়ানোর এ কথা জানান তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, ‘সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আরো বাড়াতে চায়। এ বন্দরকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে যেতে হলে বিদেশি অপারেটরকে পরিচালনার ভার দিতে হবে। এ নিয়ে প্রোপাগান্ডা না ছড়াতে সবাইকে পরামর্শ দেন তিনি।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘বিদেশিদের হাতে বন্দরের পরিচালনা দেয়া হবে, বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ও নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকবে। গত ৭ জুলাই সাইফ পাওয়ার টেক থেকে নিয়ে বন্দরের এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব নৌবাহিনীকে দেয়া হয়। এরপর নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে কনটেইনার হ্যান্ডেলিং বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ২০০ একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং হচ্ছে বলে জানান বন্দর কর্তৃপক্ষ।
কী কী খরচ বাড়ছে? কতটা বাড়ছে? নতুন কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে বিভিন্ন চার্জ। গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাড়তি খরচ নিচে তুলে ধরা হলো:
সেবা বর্তমান মাশুল (USD) নতুন মাশুল (USD) বৃদ্ধির হার
স্টাফিং (প্রতি কন্টেইনার) ২.৭৩ ৬.৪১ ↑১৩৪.৮%
লিফট অফ/অন ৫.৪৬ ৮.১২ ↑৪৮.৭%
গ্যান্টিক্রেন চার্জ (২০ ফুট) - ২০.৮০ নতুন সংযোজন
লোডিং/ডিসচার্জিং (২০ ফুট) - ৬৮.০০ নতুন কাঠামো
স্টোর রেন্ট (৪ দিনের পর, দৈনিক) - ৬.৯০ নতুনভাবে নির্ধারিত
প্রিমিয়ার সিমেন্ট পিএলসি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বলেন, “ডলার ৭৬ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ ছাড়িয়েছে। এতে আমদানি ব্যয় বেড়েছে, আবার বাজারে চাহিদা কমে গেছে। এই সংকটের মধ্যে বন্দরের চার্জ বাড়লে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়বে সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রীর দামে।”
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, “বন্দরের বিল আমাদের ডলারে পরিশোধ করতে হয়। ডলারের দামে চাপ এমনিতেই দ্বিগুণ। তার ওপর ট্যারিফ বাড়লে আমাদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার শক্তি কমে যাবে।”
