মূল সংবাদে যান
শিক্ষা ও চিকিৎসা

জিকা ভাইরাসের উচ্চঝুঁকিতে চট্টগ্রাম: আইইডিসিআর

চট্টগ্রাম নগরীতে জিকা ভাইরাস সংক্রমণের উচ্চঝুঁকি দেখা দিয়েছে— সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
জিকা ভাইরাসের উচ্চঝুঁকিতে চট্টগ্রাম: আইইডিসিআর

নগরীর ছয়টি এলাকা এবং আটটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ঘিরে পরিচালিত এক সপ্তাহব্যাপী তদন্তে জিকা ভাইরাসের মূল বাহক এডিস ইজিপ্টাই মশার আধিক্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রজনন পরিস্থিতির বয়াবহ চিত্র ধরা পড়ে।

জরিপ অনুযায়ী, এডিস মশার ৬৫ শতাংশই ছিল ইজিপ্টাই প্রজাতির, যা জিকার প্রধান বাহক হিসেবে পরিচিত। গবেষণায় ১২৮টি বাড়ির মধ্যে ৬২টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত ২০ শতাংশ ‘ঝুঁকিসীমা’র তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি।

আইইডিসিআরের প্রতিবেদনে ‘ব্রুটো ইনডেক্স’ ৭৫.২৯ শতাংশ, ‘হাউস ইনডেক্স’ ৪৩.০৪ শতাংশ এবং ‘কনটেইনার ইনডেক্স’ ৫১.০১ শতাংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে নগরীতে শুধু জিকা নয়, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ারও ভয়াবহ বিস্তার ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

জরিপে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ৯, ১৩, ১৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়টি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়। তারমধ্যে বিশেষ করে চট্টেশ্বরী রোড, ও আর নিজাম রোড, আগ্রাবাদ, পাহাড়তলী, হালিশহর ও ঝাউতলা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আগ্রাবাদে সূচক ১৩৪.৬২ শতাংশ, পাহাড়তলীতে ১১০ শতাংশ—যা ভয়াবহ পরিস্থিতিরই ইঙ্গিত দেয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি অবহেলা করলে জিকা মহামারির রূপ নিতে পারে। তাদের পরামর্শ—প্রতিরোধে সক্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে এখনই।

জানা যায়, গত ১২ জুলাই থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী নগরীর সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচালিত রোগতাত্ত্বিক ও কীটতাত্ত্বিক তদন্তে এসব তথ্য ওঠে আসে। আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীনের গত সোমবার (২১ জুলাই) স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়।

প্রতিবেদনে একইসঙ্গে তিনটি সুপারিশ এবং চারটি পদেক্ষপ গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়। প্রতিবেদনে তিনটি সুপারিশ এবং চারটি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে সুপারিশে রয়েছে-রোগীদের লক্ষণ বুঝে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দ্রুত নিশ্চিত করা, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবিলম্বে মশক নিয়ন্ত্রণ অভিযান পরিচালনা ও ধাপে ধাপে অন্যান্য ওয়ার্ডেও কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

আর জরুরী পদক্ষেপ হিসেবে- উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত মশক নিয়ন্ত্রণ অভিযান, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, হাসপাতানসমূহে জিকা শনাক্তকরণ পদ্ধতি প্রসারে সচেতনতা, সিটি কর্পোরেশন ও সিভিল সার্জনের সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ পদক্ষেপ।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, “প্রতিবেদনটি আমরা পেয়েছি। সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সম্পর্কিত বিষয়

  • জিকা ভাইরাস
  • ডেঙ্গু
  • চিকুনগুনিয়া
  • সিভিল সার্জন
  • আইইডিসিআর
  • চসিক

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন