মূল সংবাদে যান
জাতীয়

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নতুন নীতিমালা ২০২৫" চালু

নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পুরনো সব পর্যবেক্ষক তথা ৯৬টি স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করেছে। ২০২৩ সালের পর্যবেক্ষণ নীতিমালা রহিত করে নতুন “নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫” চালু করা হয়েছে।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নতুন নীতিমালা ২০২৫" চালু

তারমধ্যে গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ প্রতিবেদন দেওয়া সংস্থাগুলোকে নতুন করে নিবন্ধন দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান ইসির জনসংযোগ পরিচালক শরিফুল আলম।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘ভোটার তালিকা (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫’ খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা অনুযায়ী-

বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতায় পরিবর্তন: পর্যবেক্ষকদের সর্বনিম্ন বয়স ২৫ থেকে কমিয়ে ২১ করা হয়েছে, তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়িয়ে এসএসসি থেকে এইচএসসি করা হয়েছে।

তিনদিনের পর্যবেক্ষণ সীমা: নিবন্ধিত সংস্থাগুলো শুধু নির্বাচনের আগের দিন, নির্বাচনের দিন ও পরদিন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। আর নির্বাচন শেষ হওয়ার সাত দিনের মধ্যে পর্যবেক্ষক সংস্থাকে প্রাথমিক প্রতিবেদন ইসিতে জমা দিতে হবে।

নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু হচ্ছে: নীতিমালা অনুযায়ী পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে নিবন্ধন দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নীতিমালা মেনে আবেদন করতে হবে আগ্রহীদের। এরপর যাচাই-বাছাই শেষ করে ইসি-সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বিষয়ে দাবি-আপত্তি থাকলে সেটি জানানোর জন্য ১৫ কার্যদিবস সময় দিয়ে দৈনিক পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি দেবে নির্বাচন কমিশন। কারও বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এ ছাড়া পর্যবেক্ষকদের অন্যান্য যোগ্যতা, শর্ত, আচরণমালাসহ অন্য বিষয়গুলো আগের মতোই রাখা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক: জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক কলিমুল্লাহ মনে করেন, এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। তাঁর মতে, অতীতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সংস্থাগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে।

ইসির যুক্তি ও সমর্থন: নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আবদুল আলীম বলেছেন, যারা আগের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোকে গ্রহণযোগ্য বলে প্রতিবেদন দিয়েছিল, তাদের বাদ দেওয়া উচিত ছিল। এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন’ শব্দটি প্রশ্নবিদ্ধ: সমালোচকরা বলছেন, এ শব্দবন্ধ অস্পষ্ট এবং ব্যাখ্যা নির্ভর। এটি ব্যবহার করে যেকোনো সংস্থাকে ইচ্ছামতো বাদ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

ভোটার তালিকা সংশোধন আইনও অনুমোদিত: নতুন আইনে নির্বাচনের আগে বা যৌক্তিক সময়ে ১৮ বছর পূর্ণ হলে ভোটার হওয়া যাবে। ফলে প্রায় ৬০ লাখ নতুন ভোটার এবার তালিকায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। এই আইনের খসড়া ‘ভোটার তালিকা (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫’ উপদেষ্টা পরিষদ নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে।

মূল্যায়ন: নতুন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ও ভোটার সংশোধনী আইন— দুটি পদক্ষেপই বড় কাঠামোগত পরিবর্তন নির্দেশ করে। একদিকে নির্বাচন কমিশন সংস্থাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে চায়, অন্যদিকে বিরোধীরা এটিকে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ কমানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন। “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” শব্দের অস্পষ্টতা এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষকদের বাদ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক চলছেই।

সম্পর্কিত বিষয়

  • ইসি
  • নির্বাচন
  • পর্যবেক্ষণ নীতিমালা
  • জানিপপ

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন