এছাড়া মঙ্গলবার (০৮ জুলাই) ভোর থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে নগরীর আশপাশের উপজেলাগুলোতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, এবং পাহাড় ধসের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। টানা বৃষ্টির পর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরামর্শে বায়েজিদ লিংকরোডে যান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে বিশেষ করে নগরীর বহদ্দারহাট, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, খাতুনগঞ্জ, হালিশহর, চকবাজার, কদমতলী, ওআর নিজাম মোড়, দুই নম্বর গেইট, লালখান বাজার ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় অনেক বাড়ি ও দোকানে পানি ঢুকে গেছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবার একই চিত্র দেখা গেলেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও ওয়াসা কর্তৃপক্ষ আগাম প্রস্তুতি নেয় না। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত ও বেহাল থাকায় পানি নিষ্কাশন হতে দেরি হচ্ছে। পতেঙ্গা ও আগ্রাবাদ এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টির কারণে লোড-আনলোড কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্দরের সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পাহাড়তলী, লালখান বাজার, সংলগ্ন রেললাইনের পাশের অবৈধ বসতঘরগুলোতে ভূমিধ্বসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস ঝুঁকিপূর্ণ বসতি চিহ্নিত করে কয়েকশ’ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘নগরের কিছু জায়গায় রাস্তা উঁচু কিন্তু লিংক রোডগুলো নীচু। এসব জায়গায় ড্রেনগুলো হাজারবার পরিষ্কার করেও লাভ হচ্ছে না। প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে এ রাস্তাগুলো লেভেলে আনতে হবে। আপাতত যেখানে পানি জমার শঙ্কা দেখা দিয়েছে, সেখানকার ড্রেনেজ লাইন পরিষ্কার করা হচ্ছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং পানির খবর পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট এলাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ এদিকে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যেতে বলেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
এ নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব সাদি উর রহিম জাদিদ বলেন, ‘পাহাড়ধস প্রবণ এলাকায় মাইকিং ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গত তিন দিন ধরে জো ভিত্তিক কমিটি করে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের দ্রুত দ্রুত সরে নেওয়া হচ্ছে এবং সেই কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে।’আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছি। সব স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বর্তমানে সক্রিয় অবস্থায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে বিরাজ করছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রামসহ বরিশাল, খুলনা ও সিলেট বিভাগে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিতে পাহাড় ও নীচু এলাকায় দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত আরও বাড়তে পারে।
চট্টগ্রাম শহরকে যানজটের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোড নির্মাণ করে সরকার। প্রায় এক বছরের অধিক সময় আগে সড়কটি চালু হয়েছে। কিন্তু সড়কটির দুই পাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে খাড়া দাঁড়িয়ে থাকা ১৬টি পাহাড়কে ঝুঁকিমুক্ত করতে সিদ্ধান্ত হয়নি এই দীর্ঘ সময়ে। এরমধ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ধস শুরু হয়েছে পাহাড়গুলোতে।
