মূল সংবাদে যান
রাজনীতি

বাঁশখালী আসন: বিএনপির ‘ঘাঁটি’ এখন কোন্দলের কেন্দ্র, কৌশলী জামায়াত

চট্টগ্রামের বাঁশখালী এক সময় যা ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নিরাপদ রাজনৈতিক দূর্গ, সেই আসন এখন তাদের জন্য চ্যালেঞ্জের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
বাঁশখালী আসন: বিএনপির ‘ঘাঁটি’ এখন কোন্দলের কেন্দ্র, কৌশলী জামায়াত

২০২৫ সালের শেষার্ধে নির্ধারিত দ্বাদশ সংসদের উপনির্বাচন ও তারও আগে সম্ভাব্য নতুন নির্বাচন সামনে রেখে এই আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।

ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির প্রভাবশালী ঘাঁটি হলেও, প্রয়াত প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুর পর তার পরিবারের ভেতরে ও বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে স্পষ্ট বিভক্তি তৈরি হয়েছে। দলীয় ঐক্যের অভাব যেখানে দুর্বলতা, ঠিক সেই জায়গাতেই জামায়াতে ইসলামী কৌশলে একক প্রার্থী দিয়ে মাঠে নেমে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টায় রয়েছে।

প্রার্থীরাও বেশি, প্রতিযোগিতাও তীব্র - বর্তমানে বিএনপির অন্তত ছয়জন মনোনয়নপ্রত্যাশী সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রয়াত জাফরুল ইসলামের দুই ছেলে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা ও জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর দুই পক্ষেই সমর্থন গড়ে তুলছেন। এর বাইরে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থাকা ছাত্রদল নেতা মফিজুর রহমান আশিক ও ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, গণ্ডামারার সাবেক চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী, সাবেক পৌর মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনি, এমনকি জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক নেতা আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাকও আলোচনায় আছেন।

এই বহুমুখী প্রার্থিতার কারণে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব স্পষ্ট। একজন প্রবীণ নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এত প্রতিযোগিতা এর আগে আমরা দেখিনি। এতে আমাদের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।

জামায়াত: কৌশলে শূন্যতার সুযোগ নিচ্ছে? জামায়াতে ইসলামী স্থানীয়ভাবে সংগঠিতভাবে অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে মাঠে নেমে গেছে। দক্ষিণ জেলার অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি হিসেবে সাংগঠনিক দক্ষতার পাশাপাশি তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানও ছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির গড় ধরে রাখা অংশে জামায়াতের একক ও পরিকল্পিত কৌশল তাঁদের বিকল্প হিসেবে জায়গা করে দিতে পারে। যদি বিএনপির কোন্দল না থামে, তাহলে জামায়াত ভোট টেনে নিতে পারে। কারণ মানুষ যোগ্যতা ও ঐক্যের ভিত্তিতে রায় দিতে চায়।

নতুন দল ও পুরোনো চেহারার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা - নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশকারী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মীর আরশাদুল হক ও নেজামে ইসলামের আল্লামা মুছা-বিন ইজহারও মাঠে নেমেছেন।

অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়েও আলোচনা চলছে, যদিও বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।

ভোটারের চোখে যোগ্যতা’ই এখন মূল কথা - চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯০৬ জন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার এই আসনে জয় পেয়েছিলেন জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। এরপর ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে এই আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হন।

তবে সর্বশেষ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মুজিবুর রহমান জয়ী হন, যা স্থানীয় রাজনীতির সরলরেখা বদলে দেয়।

এবারের নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের একাংশ মনে করেন, দল নয়, আমরা এমন কাউকে চাই যিনি এলাকায় থাকবেন, কাজ করবেন। অর্থাৎ ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও এলাকার সঙ্গে সম্পর্ককেই তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বিএনপির ঐক্য না এলে ঘাঁটি ফসকে যেতে পারে- বাঁশখালীর রাজনীতি এখন এক জটিল দ্বন্দ্বের মাঝে। বিএনপির জন্য এটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আসন। কিন্তু যদি কোন্দল অব্যাহত থাকে, মনোনয়ন নিয়ে বিভক্তি তৈরি হয়, তাহলে এই আসনে ঘাঁটি হারানোর ঝুঁকি বাড়বে।

অন্যদিকে, জামায়াত ও অন্যান্য ছোট দলসমূহ একক কৌশল নিয়ে এগোলে বিএনপি সমর্থক ভোট বিভাজিত হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বাঁশখালী আগামী নির্বাচনে আবারও চমক দেখাতে পারে।

সম্পর্কিত বিষয়

  • বাঁশখালী আসন
  • বিএনপি
  • জামায়াত
  • এনসিপি

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন