এতে বন্দরের মোট পরিচালন সক্ষমতার ৩০ শতাংশের বেশি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এই সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলে বছরে ১০০ কোটি ডলারের বেশি অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অথাৎ চট্টগ্রাম বন্দর বছরে ১০০ কোটি ডলার যা প্রায় ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত যা প্রতি মাসে প্রায় হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে জাহাজের অবস্থানকাল কমবে, কন্টেনার দ্রুত খালাস হবে এবং আমদানিকারকদের অতিরিক্ত ব্যয়ও কমবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা, কাস্টমসের নিষ্পত্তি বিলম্ব, পণ্যের মূল্যায়ন জটিলতা, আদালতে মামলা এবং নিলামপ্রক্রিয়ার ধীরগতিই দীর্ঘস্থায়ী এই জটের প্রধান কারণ। বন্দর সূত্রের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ইয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ টিইইউএস কন্টেনার। এগুলো ইয়ার্ডের প্রায় ২২ শতাংশ জায়গা দখল করে রেখেছে। এর বাইরে রয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৯৯ প্যাকেজ লেস-দ্যান-কন্টেনার লোড (এলসিএল), ৬ হাজার ৭৯২ প্যাকেজ বাল্ক কার্গো এবং ৭৭৫ প্যাকেজ ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক পণ্য। কোনো কোনো চালান দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পড়ে আছে। দীর্ঘদিনে অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেলেও সেগুলো ইয়ার্ড থেকে সরানোর কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি।
সাড়ে ৯ হাজার কন্টেনারে আটকে জায়গা
বন্দর কর্মকর্তাদের মতে, আটকে থাকা পণ্যগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে নতুন টার্মিনাল, জেটি বা ইয়ার্ড নির্মাণ ছাড়াই বিদ্যমান অবকাঠামোর ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব। শুধু দীর্ঘদিনের নিলামযোগ্য ও পরিত্যক্ত পণ্য সরিয়ে ইয়ার্ডের জায়গা পুনরুদ্ধার করা গেলে পণ্য ও কন্টেনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৩০ শতাংশ বা তারও বেশি বাড়তে পারে। অর্থাৎ, অবকাঠামো সম্প্রসারণে বিপুল বিনিয়োগের আগে বন্দরের বিদ্যমান জায়গা কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাবে, দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পণ্যের বিপরীতে বকেয়া স্টোরেজ মাশুল ইতোমধ্যে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একদিকে এই অর্থ আদায় হচ্ছে না, অন্যদিকে পণ্যগুলো জায়গা দখল করে রাখায় নতুন আমদানি চালান গ্রহণ ও খালাসের ওপর চাপ বাড়ছে।
সামান্য পণ্য, চার্জ কয়েক গুণ
দীর্ঘস্থায়ী জটের আর্থিক ক্ষতির একটি চিত্র পাওয়া যায় বন্দরে প্রায় পাঁচ বছর পড়ে থাকা একটি কন্টেনারে। বন্দর কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ‘সান আলফনসো’ জাহাজে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে প্লাস্টার অব প্যারিসের একটি কন্টেনার। ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই পর্যন্ত সেটি বন্দরে পড়ে ছিল ১ হাজার ৭৬৪ দিন—প্রায় পাঁচ বছর। আমদানির সময় পণ্যটির মূল্য তুলনামূলকভাবে কম হলেও দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারণে শুধু বন্দর-সংক্রান্ত চার্জই প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। আরেকটি চালানের আমদানি মূল্য ছিল ৬ হাজার ৪৪০ ডলার। ডেমারেজসহ বিভিন্ন চার্জ যোগ হয়ে সেটি প্রায় ২২ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। বন্দরের প্রচলিত কাঠামো অনুযায়ী, ২০ ফুটের একটি কন্টেনারের ক্ষেত্রে প্রথম সাত দিন দৈনিক ৬ দশমিক ৯০ ডলার, পরবর্তী সাত দিন ১৩ দশমিক ৮০ ডলার এবং এরপর দৈনিক সর্বোচ্চ ১১০ দশমিক ৪ ডলার পর্যন্ত স্টোরেজ চার্জ হতে পারে। ফলে স্বল্পমূল্যের কোনো পণ্য বছরের পর বছর পড়ে থাকলে একপর্যায়ে পণ্যের মূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি চার্জ জমে যায়।
৬০০টির বেশি মামলা, আটকে নিলাম
দীর্ঘদিনের পণ্যজটের অন্যতম বড় কারণ নিলামযোগ্য ও পরিত্যক্ত পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়া। কাস্টমস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ৬০০টির বেশি পণ্য-সংক্রান্ত মামলা আদালতে বিচারাধীন। মামলা চলমান থাকলে সংশ্লিষ্ট পণ্য নিলামে তোলা বা ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ আদালতের রায়ে পরবর্তীতে কোনো আমদানিকারক বা পণ্য দাবিদার জয়ী হলে সরকারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ কারণে মামলাধীন বিপুলসংখ্যক কন্টেনার বছরের পর বছর ইয়ার্ডে পড়ে থাকে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পরিত্যক্ত পণ্য চাইলেই নিলাম বা ধ্বংস করা যায় না। প্রতিটি কন্টেনারের ইনভেন্টরি, পণ্যের প্রকৃতি ও অবস্থান যাচাই, আমদানিসংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা এবং কোনো মামলা বা আইনি বাধা রয়েছে কি না—এসব বিষয় নিশ্চিত করতে হয়। নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে পণ্য নিষ্পত্তি করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহি ও আইনি ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে।
এনবিআরকে বন্দরের চিঠি
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে বছরের পর বছর পড়ে থাকা নিলামযোগ্য কার্গো ও কন্টেনার দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের এই পণ্যজট ইয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা আটকে রেখেছে। এতে বন্দর পরিচালনার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং বকেয়া স্টোরেজ মাশুল ক্রমেই বাড়ছে। দ্রুত নিলাম, ধ্বংসযোগ্য পণ্য দ্রুত ধ্বংস এবং আদালত ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে থাকা পণ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া গেলে পরিস্থিতির বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন বিনিয়োগ ছাড়াই বাড়বে সক্ষমতা
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই নতুন টার্মিনাল ও অবকাঠামো নির্মাণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বিদ্যমান ইয়ার্ডের জায়গা পুনরুদ্ধার করাই হতে পারে স্বল্পমেয়াদে সক্ষমতা বাড়ানোর সবচেয়ে দ্রুত উপায়। তাদের হিসাবে, দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পণ্য সরানো গেলে বর্তমান অবকাঠামো দিয়েই অতিরিক্ত প্রায় ৩০ শতাংশ পণ্য ও কন্টেনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হতে পারে। এতে নতুন অবকাঠামো নির্মাণে তাৎক্ষণিক বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না। বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলে বছরে ১০০ কোটি ডলারের বেশি অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে জাহাজের অবস্থানকাল কমবে, কন্টেনার দ্রুত খালাস হবে এবং আমদানিকারকদের অতিরিক্ত ব্যয়ও কমবে।
বাণিজ্য বাড়ছে, বাড়ছে বন্দরের ওপর চাপ
চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর বৈদেশিক বাণিজ্যের চাপ প্রতি বছরই বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরটি ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিং করেছে। আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউএস। অর্থাৎ এক বছরে কন্টেনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। একই সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিং রেকর্ড ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার টনে পৌঁছেছে। জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে ৪ হাজার ৩২৪টি, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৪ হাজার ৭৭টি। বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে যখন বন্দরে নতুন নতুন পণ্য আসছে, তখন পুরনো পণ্য সরানো না গেলে বিদ্যমান অবকাঠামোর ওপর চাপ আরও বাড়বে। ফলে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশ্নটি শুধু নতুন টার্মিনাল নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; পুরনো পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তিও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শিপিং লাইনেও বাড়ছে ক্ষতি
কন্টেনার দীর্ঘদিন আটকে থাকার প্রভাব শুধু বন্দর বা আমদানিকারকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিপিং লাইনগুলোও। একটি কন্টেনার দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকলে সেটি অন্য কোনো রুটে ব্যবহার করা যায় না। এতে কন্টেনারের মুভমেন্ট কমে যায় এবং শিপিং কোম্পানিগুলোকে অতিরিক্ত কন্টেনার সংগ্রহ ও পরিচালনার ব্যয় বহন করতে হয়। পাশাপাশি কন্টেনার সংকট তৈরি হলে নতুন পণ্য পরিবহনেও অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় যুক্ত হয়। ফলে ইয়ার্ডে পড়ে থাকা একটি কন্টেনারের সমস্যা ধীরে ধীরে বন্দর, শিপিং লাইন, আমদানিকারক এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে। ২০০ কোটি ডলারের পণ্য, ৫০০ কোটি ডলারের ক্ষতির হিসাব বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে আটকে থাকা পণ্যের মূল্য অন্তত ২০০ কোটি ডলার। দীর্ঘদিন কন্টেনার পড়ে থাকায় শিপিং লাইন ও কন্টেনার খাতে সম্ভাব্য ক্ষতি প্রায় ১৫০ কোটি ডলার। বন্দরের বকেয়া স্টোরেজ মাশুলের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি ডলার। এর সঙ্গে কাস্টমসের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি, ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ব্যয়, জাহাজের বিলম্ব, কন্টেনার ব্যবহারের সুযোগ হারানো এবং সরবরাহব্যবস্থায় অতিরিক্ত ব্যয় যোগ করলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তাদের দাবি। তবে এই হিসাবের প্রতিটি উপাদান সরকারি নিরীক্ষা বা সমন্বিত অর্থনৈতিক মূল্যায়নের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। ফলে ৫০০ কোটি ডলারের অঙ্কটিকে ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীদের হিসাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঝুঁকির মুখে ৭৭৫ প্যাকেজ রাসায়নিক পণ্য
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা ৭৭৫ প্যাকেজ ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক পণ্য। সংবেদনশীল এসব পণ্য দীর্ঘদিন বন্দরের ইয়ার্ডে সংরক্ষিত থাকায় অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ, রাসায়নিক দূষণসহ নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে রাসায়নিকের মেয়াদ, সংরক্ষণ পরিবেশ এবং প্যাকেজিংয়ের অবস্থা দীর্ঘদিনে পরিবর্তিত হলে তা বন্দরের শ্রমিক, কর্মকর্তা এবং আশপাশের পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এসব পণ্য চুরি বা অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও নজরদারি জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ
চট্টগ্রাম বন্দরের এই দীর্ঘস্থায়ী জট কাটাতে শুধু বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কাস্টমস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষ, আইন মন্ত্রণালয় এবং বিচার বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুত নিলাম, ধ্বংসযোগ্য পণ্য দ্রুত ধ্বংস এবং আদালতে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মামলার বিষয়ে বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ নেওয়া গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই ইয়ার্ডের বড় অংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সমন্বিত নির্দেশনা এলেও প্রক্রিয়াটি দ্রুত করা যেতে পারে।
কারণ চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নতুন অবকাঠামো নির্মাণ যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও জরুরি হয়ে উঠেছে বন্দরের ভেতরে আটকে থাকা জায়গা ও সম্পদকে কার্যকর ব্যবহারে ফিরিয়ে আনা। বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পুরনো পণ্যের এই জট দ্রুত না কাটলে নতুন টার্মিনাল ও অবকাঠামো যুক্ত হলেও একই ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। আর জট খুলতে পারলে বড় বিনিয়োগ ছাড়াই বিদ্যমান বন্দরের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে—এমনটাই মনে করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।