মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

করের টাকায় প্রকল্প, বিনিয়োগে মূল্যমান, প্রাপ্তি, কর্মসংস্থান ও পরিবেশগত প্রভাব নিশ্চিতের তাগিদ অর্থমন্ত্রীর

জনগণের করের টাকায় নেওয়া প্রতিটি সরকারি বিনিয়োগ প্রকল্পের বিপরীতে দৃশ্যমান সুফল নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
করের টাকায় প্রকল্প, বিনিয়োগে মূল্যমান, প্রাপ্তি, কর্মসংস্থান ও পরিবেশগত প্রভাব নিশ্চিতের তাগিদ অর্থমন্ত্রীর

তিনি বলেছেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই সরকারি বিনিয়োগের সফলতা নিশ্চিত হয় না; প্রকল্পে কত টাকা বিনিয়োগ হলো, তার বিপরীতে কী প্রাপ্তি হচ্ছে, কত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে এবং পরিবেশের ওপর কী প্রভাব পড়ছে—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) আয়োজিত ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি অর্থে নেওয়া প্রতিটি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মূল্যমান, বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্তি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। জনগণের করের টাকা ব্যয় করে নির্মিত অবকাঠামো থেকে কী ফল পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিতে হলে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে নিয়মিত বেঞ্চমার্কিং করতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমের পিয়ার রিভিউ নিশ্চিত করা জরুরি।

‘নিজেদের কাজের মূল্যায়ন নিজেরা করলে চলবে না’ উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, অন্যদের মূল্যায়নের মাধ্যমে নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে।

গবেষণা ও উদ্ভাবনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে নিতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই। শুধু ভালো কাজ করলেই হবে না, সেই কাজকে আন্তর্জাতিক পরিসরে দৃশ্যমান করতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে শুধু ভবন নির্মাণে বিনিয়োগ যথেষ্ট নয়। অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ জনবল, গবেষণা সুবিধা, ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

চুয়েটের আইটি ইনকিউবেটর কার্যকরভাবে পরিচালনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এর জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। ঢাকায় ফিরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। শিল্পখাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আমির খসরু বলেন, বিশ্বের উন্নত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিল্পখাতের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা রয়েছে। বাংলাদেশেও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সক্ষমতাকে শিল্পখাতের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, দেশের অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চুয়েটের গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকেও যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও গবেষণায় অর্থের অভাবে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ যেন থেমে না যায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিতর্ক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুয়েটের সহযোগিতা জোরদার করে নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানান। এলাকার সন্তান হিসেবে চুয়েটের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সবসময় পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে চুয়েটকে এগিয়ে নিতে হবে। বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিং উন্নয়নে বিদেশি অধ্যাপক ও অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি নিয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও গবেষণা কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ জোরদার এবং মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন