মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

সিপিএর নতুন অফ-ডকের অনুমোদন, বাড়ল বেসরকারি কনটেইনার ডিপো

বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও কনটেইনার পরিবহন বাড়ার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নতুন একটি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোর অনুমোদন দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

কর্ণফুলী ড্রাই ডক লিমিটেড (কেডিডিএল) পরিচালিত এই অফ-ডকে খালি কনটেইনার সংরক্ষণের পাশাপাশি রপ্তানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা যাবে।

সিপিএর অনুমোদনপত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আইসিডি/সিএফএস নীতি-২০১৬ এবং বেসরকারি আইসিডি, সিএফএস বা অফ-ডক স্থাপন ও পরিচালনা-সংক্রান্ত ২০২১ সালের নীতি অনুসরণ করেই নতুন ডিপোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আনোয়ারায় অবস্থিত নতুন এই অফ-ডকটি শিপিং এজেন্ট ও মেইনলাইন অপারেটরদের জন্য বিভিন্ন আকারের খালি কনটেইনার সংরক্ষণ করবে। পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনারও গ্রহণ, সংরক্ষণ ও হ্যান্ডলিং করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর কনটেইনার ব্যবস্থাপনার চাপ কমানো এবং বন্দরকেন্দ্রিক লজিস্টিকস কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের অফ-ডকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রপ্তানি কনটেইনার বন্দরে পাঠানোর আগে নির্দিষ্ট স্থানে প্রস্তুত ও সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হলে বন্দরের অভ্যন্তরীণ জায়গার ওপর চাপ কমতে পারে।

নতুন অফ-ডক পরিচালনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিপজ্জনক পণ্য পরিবহন ও সংরক্ষণসংক্রান্ত আইএমডিজি কোড অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নির্ধারিত মান অনুযায়ী আইএসপিএস (ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঝযরঢ় ধহফ চড়ৎঃ ঋধপরষরঃু ঝবপঁৎরঃু) সার্টিফিকেট হালনাগাদ রাখতে হবে। কনটেইনার স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও থাকছে কঠোর নজরদারি।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ইলেকট্রনিক কার্গো ট্র্যাকিং সিস্টেম (ইসিটিএস) অথবা জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে কনটেইনার চলাচল তদারক করবে। এ ছাড়া পণ্যবাহী কনটেইনার অফ-ডকে স্থানান্তরের আগে স্ক্যান করতে হবে। পুরো কার্যক্রম সিপিএর নির্দেশনা অনুযায়ী সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।

কর্ণফুলী ড্রাই ডকের নতুন অফ-ডকের অনুমোদনের ফলে দেশে বেসরকারি মালিকানাধীন অফ-ডকের সংখ্যা বেড়ে ২৪টিতে দাঁড়িয়েছে। এর বেশিরভাগই চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত। চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব অফ-ডক দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালনা করছে।

বর্তমানে দেশের সব রপ্তানি পণ্য, ৬৫ শ্রেণির আমদানি পণ্য এবং দেশব্যাপী খালি কনটেইনার সংরক্ষণের বড় একটি অংশ বেসরকারি অফ-ডকের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা করা হয়।

বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দরের পাশাপাশি ডিপো ও লজিস্টিকস অবকাঠামোর চাহিদাও বাড়ছে। এ অবস্থায় আনোয়ারায় নতুন অফ-ডকের সংযোজন চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রামকেন্দ্রিক লজিস্টিকস অবকাঠামোর বিকাশেও ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী নিরাপত্তা, কাস্টমস নিয়ন্ত্রণ, কনটেইনার ট্র্যাকিং ও পণ্য স্ক্যানিং যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করাই হবে এ ব্যবস্থার কার্যকারিতার মূল বিষয়।

সম্পর্কিত বিষয়

  • সিপিএ
  • অফ-ডক

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন