মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

যানজট-জলাবদ্ধতার বিরুদ্ধে সিডিএর কঠোর অবস্থান, এগোচ্ছে ২৫ বছরের মাস্টারপ্ল্যান

চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের যানজট, জলাবদ্ধতা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের বিরুদ্ধে এবার একসঙ্গে কয়েকটি ফ্রন্টে সক্রিয় হয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
যানজট-জলাবদ্ধতার বিরুদ্ধে সিডিএর কঠোর অবস্থান, এগোচ্ছে ২৫ বছরের মাস্টারপ্ল্যান

অফিসকেন্দ্রিক কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে নগরীর ব্যস্ততম সড়ক, বেসরকারি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন।

তাঁর নেতৃত্বে গত ১৭ দিনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে নগরীর যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা।

সিডিএর অভিযানের পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানজটের চিত্রে পরিবর্তন এসেছে। হাসপাতালগুলোর সামনে সড়ক দখল করে গাড়ি রাখা, পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান-ক্যান্টিন স্থাপন এবং নকশাবহির্ভূত ব্যবহার নিয়ে দেওয়া হয়েছে কঠোর সতর্কবার্তা। আগামী এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

শুধু তাৎক্ষণিক যানজট নিরসন নয়, দীর্ঘমেয়াদি নগর ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সিডিএ। ২৫ বছরের মাস্টারপ্ল্যানের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নগরের পরিধি বাড়ানো, জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, আবাসন পরিকল্পনা এবং শিক্ষা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার জন্য পৃথক জোন তৈরির চিন্তাও সামনে এসেছে।

চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিয়ে আলোচনা হলেই সাধারণত সড়কের ধারণক্ষমতা, অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত দখল কিংবা গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলার কথা আসে। কিন্তু সিডিএর সাম্প্রতিক অভিযানে নগরীর বেসরকারি হাসপাতালগুলোও যানজটের বড় উৎস হিসেবে সামনে এসেছে।

গত ১৭ দিনে ও আর নিজাম রোড, মেহেদীবাগ, কাতালগঞ্জ, জিইসি মোড় ও সার্সন রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় সিডিএ। এ সময় মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টার, সিএসসিআর, ন্যাশনাল হাসপাতাল, ম্যাক্স হাসপাতাল, ইবনে সিনা, পার্কভিউ, ডেল্টা ও ডক্টরস হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পার্কিং ব্যবস্থার ঘাটতি স্পষ্ট হয়।

সিডিএর পরিদর্শনে দেখা গেছে, প্রায় সবকটি বেসরকারি হাসপাতালের নিজস্ব পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নেই। নামমাত্র থাকলেও কোথাও পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান বা ক্যান্টিন করা হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাসের গুদামও গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে রোগী ও স্বজনদের গাড়ি অনেকটা বাধ্য হয়েই রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে রাখতে হচ্ছে। একদিকে গাড়ির সারি, অন্যদিকে রোগী ওঠানামা—সব মিলিয়ে ব্যস্ত সড়কে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, নগরের প্রায় ৮০ শতাংশ বেসরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকাই যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ। হাসপাতালগুলো পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত করলে নগরীর যানজটের বড় একটি অংশ কমানো সম্ভব।

শুধু হাসপাতাল নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক যানজটও সিডিএর নজরে এসেছে। চিটাগং গ্রামার স্কুল, জামালখানের সেন্ট মেরিস স্কুল ও চিটাগং আইডিয়াল স্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। কিন্তু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গাড়ি রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় স্কুল শুরু ও ছুটির সময়ে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যানজট তীব্র হয়।

সিডিএর তথ্য অনুযায়ী, একটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী থাকলেও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র দুটি। ফলে জামালখান থেকে চকবাজার গনি বেকারি পর্যন্ত সড়কে দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহনের গতি ব্যাহত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানকে আগামী এক মাসের মধ্যে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নকশাবহির্ভূত ভবন ব্যবহার করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সিডিএ।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলগুলোকে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, প্রয়োজন হলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক ‘এডুকেশন জোন’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ও চট্টগ্রাম ওয়াসার সঙ্গে সমন্বয় করে নগরের যানজট ও নাগরিক সমস্যা সমাধানে কাজ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যদি একই পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে থাকে, তাহলে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সিডিএর সাম্প্রতিক তৎপরতার পর কয়েকটি এলাকায় যানজট কমার চিত্র পাওয়া গেছে। মেহেদীবাগ রোড, গোলপাহাড় মোড়, কাতালগঞ্জের পার্কভিউ ও ইবনে সিনা হাসপাতাল এলাকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আগের তুলনায় যানবাহনের চাপ কম দেখা গেছে।

নগরবাসীর মতে, মূল পরিবর্তন এসেছে প্রতিষ্ঠানগুলোর আচরণে। আগে হাসপাতালের সামনে রোগী ওঠানামা বা গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে সড়কের একটি বড় অংশ আটকে থাকলেও এখন নিরাপত্তাকর্মীরা রাস্তার ওপর গাড়ি রাখা ঠেকাতে তৎপর হয়েছেন।

তবে নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অভিযানভিত্তিক তৎপরতার পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন। কারণ অভিযান শেষ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানগুলো আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেলে স্থায়ী সমাধান আসবে না। আসলে যানজট নিরসনে একক কোনো সংস্থার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। সড়ক ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন, ভবন অনুমোদন ও নগর পরিকল্পনা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই একাধিক সংস্থা যুক্ত।

সিডিএ চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ডেল্টা হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় সরু পার্কিং এলাকায় রোগী নামানো ও ওঠানোর বিষয়ে ঝুঁকির অবস্থার কথা আমি তুলে ধরেছি। বিশেষ করে বড় ও বিত্তবান প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন সিডিএ চেয়ারম্যান।

চট্টগ্রামের আরেক দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা জলাবদ্ধতা। প্রতিবছর বর্ষা এলেই নগরীর অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে এ সমস্যা মোকাবিলায় খাল ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার ওপর নজর বাড়িয়েছে সিডিএ। ভারী বৃষ্টিপাতের সময় সিডিএ চেয়ারম্যান নিজে মাঠে থেকে নগরীর বিভিন্ন খাল পরিদর্শন করেছেন। ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে খালের পানি প্রবাহ, প্রতিবন্ধকতা ও নিষ্কাশন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

সিডিএর দাবি, ৪১২ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের পরও সমন্বিত তৎপরতার কারণে নগরের বড় অংশে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। চসিক মেয়রের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে পানি নিষ্কাশনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, জলাবদ্ধতার মতো জটিল সমস্যা মোকাবিলায় সিডিএ এককভাবে নয়, অন্যান্য সংস্থাকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে হবে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু খাল পরিষ্কার করলেই হবে না। খাল দখল ও ভরাট বন্ধ, ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়ানো, জলাধার সংরক্ষণ এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নগর ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় উদ্যোগগুলোর একটি হচ্ছে ২৫ বছরের মাস্টারপ্ল্যান। সিডিএর দাবি, প্রকল্পটির প্রায় ৮৭ শতাংশ ভৌত কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় বর্তমান নগর সীমানার বাইরে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলাকে যুক্ত করে বৃহত্তর নগর অঞ্চল গড়ে তোলার চিন্তা রয়েছে। এতে নগরের আয়তন প্রায় ১ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মাস্টারপ্ল্যানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এটি শুধু সড়ক বা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নয়। ভূমি ব্যবহার, আবাসন, যোগাযোগ, শিল্প, পরিবেশ, জলাধার, শিক্ষা ও নাগরিক সুবিধা—সবকিছুকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য সাংবাদিক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, সমাজকর্মী, পরিবেশবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। গণশুনানির মাধ্যমে পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে জনমত গ্রহণের কথাও জানিয়েছে সিডিএ।

সিডিএর কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে চেয়ারম্যানের নিয়মিত মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি। কখনো আবাসিক এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান, কখনো হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পার্কিং পরিস্থিতি পরিদর্শন, আবার কখনো এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি দেখতে মাঠে যাচ্ছেন তিনি।

কর্মকর্তাদের মতে, চেয়ারম্যানের নিয়মিত সরেজমিন তৎপরতায় দীর্ঘদিনের কিছু প্রশাসনিক জড়তা কাটছে। তিনি নিজে সকাল ৯টার আগেই অফিসে উপস্থিত থেকে সময়ানুবর্তিতার ওপর জোর দিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি এসব কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চেয়ারম্যান পরিবর্তন হলে যেন উদ্যোগগুলো থেমে না যায়, সে জন্য স্থায়ী নীতিমালা, নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহির কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

সিডিএ চেয়ারম্যানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নগরবাসীর মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে। বিশেষ করে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পার্কিং নিয়ে সরাসরি অভিযান এবং জলাবদ্ধতার সময় মাঠে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে নগর উন্নয়নের আসল সাফল্য নির্ভর করবে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলের ওপর।

একটি হাসপাতাল বা স্কুলের সামনে কয়েক দিন যানজট কমে যাওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কয়েক বছর পরও যেন একই সমস্যা ফিরে না আসে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে একটি বর্ষা তুলনামূলক ভালো গেলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। খাল-নালা, ড্রেনেজ, জলাধার ও ভূমি ব্যবহারের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান নগরী। বন্দর, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে জাতীয় অর্থনীতিতে এ নগরের গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে যানজট, জলাবদ্ধতা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের মতো সমস্যা এখন শুধু নাগরিক দুর্ভোগের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও বিনিয়োগের পরিবেশও।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেনের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা সেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, অভিযান ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ কতটা দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে রূপ নেয়।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন মনে করেন, চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু সরকারি সংস্থার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে, তবে তা হতে হবে তথ্যনির্ভর ও জনস্বার্থকেন্দ্রিক। প্রকল্পের সাফল্যের পাশাপাশি সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পাবে।

নগরবাসীর প্রত্যাশা—চট্টগ্রামকে শুধু সাময়িকভাবে যানজট ও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করা নয়; বরং এমন একটি পরিকল্পিত নগর কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে আগামী প্রজন্মের জন্য সড়ক, আবাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, পরিবেশ ও নাগরিক সুবিধা থাকবে সমন্বিত ও টেকসই ব্যবস্থাপনার মধ্যে।

সম্পর্কিত বিষয়

  • সিডিএ
  • যানজট
  • জলাবদ্ধতা

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন