বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) উদ্ভাবিত এই ই–রিকশায় যাত্রী ও চালকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৬টি আধুনিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে।
চসিক সূত্র জানায়, নতুন নীতিমালার আওতায় দুটি প্যাডেলচালিত রিকশার পরিবর্তে একটি পরিবেশবান্ধব ই–রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নগরীতে রিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, যানজট হ্রাস এবং নিরাপদ ও টেকসই নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সোমবার চট্টগ্রাম মহানগরী রিকশা চালক-মালিক ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ উদ্যোগের ঘোষণা দেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মেয়র বলেন, শুধুমাত্র নিবন্ধিত এবং নিয়মিত নবায়ন করা প্যাডেলচালিত রিকশার মালিকরাই ই–রিকশার লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ পাবেন। যেসব মালিক এখনো রিকশার নিবন্ধন বা বার্ষিক নবায়ন সম্পন্ন করেননি, তাদের দ্রুত তা সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, নিবন্ধনবিহীন বা অনিবন্ধিত রিকশা এই সুবিধার আওতায় আসবে না। নিবন্ধিত প্যাডেলচালিত রিকশার লাইসেন্স জমা দেওয়ার ভিত্তিতেই পরিবেশবান্ধব ই–রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হবে।
ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরে প্রায় ৭০ হাজার রিকশার লাইসেন্স থাকলেও এর মধ্যে মাত্র ২৫ হাজারের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। বাকি প্রায় ৪৫ হাজার রিকশার মালিক এখনো নবায়ন করেননি।
তিনি বলেন, রিকশার তথ্যভান্ডার হালনাগাদ হলে নগরীর যানবাহন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে, যা নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
মেয়র আরও বলেন, ধাপে ধাপে প্যাডেলচালিত রিকশা তুলে দিয়ে পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ই–রিকশা চালু করা হবে। এতে রিকশাচালকদের শারীরিক পরিশ্রম কমবে, যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে এবং অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ব্যবহারও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
সভায় চট্টগ্রাম মহানগর রিকশা চালক-মালিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি আবদুল কাদের মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, সহসভাপতি খোরশেদ আলম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দীন সোহাগ এবং মহিলা সম্পাদক সালমা আকতার শিউলি উপস্থিত ছিলেন।
বুয়েটের উদ্ভাবিত ই–রিকশায় আধুনিক প্রযুক্তি
চসিক সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর আফতাবনগরে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি বুয়েট উদ্ভাবিত ই–রিকশার পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়। এসব ই–রিকশায় ৩৮ ভোল্টের পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রচলিত অ্যাসিড ব্যাটারির তুলনায় হালকা, দীর্ঘস্থায়ী এবং তুলনামূলক নিরাপদ।
নিরাপত্তার স্বার্থে ই–রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া জিও–ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করায় নির্ধারিত এলাকার বাইরে কিংবা মহাসড়কে এসব যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বুয়েটের উদ্ভাবিত এই ই–রিকশা বর্তমানে চলাচলরত অনিরাপদ ও অবৈজ্ঞানিক ব্যাটারিচালিত রিকশার একটি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে এটি নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে সহায়ক হবে।
