আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত ও সংগঠিত করতে আগামী ১৫ আগস্ট ‘বন্দর রক্ষা নাগরিক কনভেনশন’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার আগ্রাবাদের বাদামতলী মোড় থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা বারিক বিল্ডিং মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ সেটিকে সামনে অগ্রসর হতে বাধা দেয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করা হয়।
সমাবেশে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ঘোষণা দেন, আগামী ১৫ আগস্ট সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই স্মৃতি হলে ‘বন্দর রক্ষা নাগরিক কনভেনশন’ অনুষ্ঠিত হবে। এতে শ্রমিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা নয়, এটি দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বন্দর রক্ষার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতেই এই নাগরিক কনভেনশনের আয়োজন করা হচ্ছে। পদযাত্রা শুরুর আগে বাদামতলী মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু।
সমাবেশে শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য তপন দত্ত বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বন্দরের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি বা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে তা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে, তবে তার অর্থ জাতীয় সম্পদ ইজারা দেওয়া নয়।
বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়, এটি দেশের মানুষের সম্পদ। শ্রমিকদের মতামত উপেক্ষা করে বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি বলেন, আধুনিকায়ন প্রয়োজন হলেও তা রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও জনগণের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই করতে হবে।
জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম বলেন, বন্দরের শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা হলে শ্রমিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে তার প্রতিরোধ করবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, বাসদ (মার্ক্সবাদী) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সদস্য দীপা মজুমদার, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, আব্দুল বাতেন, ইব্রাহীম ফরাজী, শফিকুর রহমান মজুমদার, আব্দুর রহিম, মো. মিজানুর রহমান, আব্দুল মন্নানসহ বিভিন্ন শ্রমিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূরীকরণ এবং দক্ষ জনবল নিয়োগ জরুরি। তবে উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রীয় মালিকানা বা জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো উদ্যোগ জনগণ মেনে নেবে না।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা ‘বন্দর বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’, ‘এনসিটি-সিসিটি ইজারা দেওয়া চলবে না’, ‘জাতীয় সম্পদ রক্ষায় জনগণ ঐক্যবদ্ধ’ এবং ‘বন্দর রক্ষার আন্দোলন সফল করো’ স্লোগানসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করলে বারিক বিল্ডিং মোড়ে পুলিশ তাদের থামিয়ে দেয়। পরে সেখানেই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
