প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠিয়ে পুরো দরপত্র প্রক্রিয়া পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে কীভাবে দরপত্র আহ্বান করা যায়, সে বিষয়ে সুপারিশ দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
গত ২৯ জুলাই জারি করা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশ অনুযায়ী, কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সদস্য হিসেবে রয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী, নৌপরিবহন ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বন্দর অনুবিভাগের যুগ্মসচিবকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে। কমিটিকে আগের দরপত্র প্রক্রিয়ার সব দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে নতুন করে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে দরপত্র আহ্বান করা যায়।
বন্দর সূত্র জানায়, জেনারেল কার্গো বার্থের ছয়টি বার্থে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা অপারেটরদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর-২০২৫) অনুসারে ‘এক ধাপ, দুই খাম’ পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রে মোট ১২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে কারিগরি মূল্যায়নে ১১টি প্রতিষ্ঠান যোগ্য বিবেচিত হয়। পরে আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়নের ভিত্তিতে টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি প্রতিটি বার্থের জন্য সর্বনিম্ন দরদাতাকে পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগের সুপারিশ করে।
সুপারিশ অনুযায়ী, বার্থ-২-এর জন্য ৪৪ কোটি ২ লাখ টাকায় মেসার্স রুহুল আমিন অ্যান্ড ব্রাদার্স, বার্থ-৩-এর জন্য ৪৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকায় এ ডব্লিউ খান অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড, বার্থ-৪-এর জন্য ৪৪ কোটি ১ লাখ টাকায় ইউনাইটেড ট্রেডিং কোম্পানি, বার্থ-৫-এর জন্য ৪৪ কোটি টাকায় কসমস এন্টারপ্রাইজ, বার্থ-৭-এর জন্য ৪৪ কোটি টাকায় ফোর জুয়েল স্টিভেডরিং সিন্ডিকেট লিমিটেড এবং বার্থ-৮-এর জন্য ৪৪ কোটি ২ লাখ টাকায় পঞ্চরাগ উদয়ন সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। ছয়টি বার্থের মোট দরমূল্য ছিল ২৬৪ কোটি ৫ লাখ টাকা। তবে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠালেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করেনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, সরকারি সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক চিঠি এখনো বন্দরে পৌঁছেনি। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।