সংগঠনটি বলেছে, এই উদ্যোগ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার জনস্বার্থবিরোধী নীতির ধারাবাহিকতা। তারা অবিলম্বে এ প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ক্যাবের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগর সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকুসহ সংগঠনের নেতারা এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠার ৬৩ বছর পরও চট্টগ্রাম ওয়াসা নগরবাসীর চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়নি। এখনও নগরীর প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকায় নিয়মিত পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি। দীর্ঘ ১৫ বছর দায়িত্বে থাকা সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহর আমলে অদক্ষতা, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও গ্রাহকস্বার্থ উপেক্ষার কারণে প্রতিষ্ঠানটি সেবার মানোন্নয়নে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
ক্যাবের ভাষ্য, নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম বোর্ড সভায় অতীতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপচয় রোধে কোনো কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ না করে গ্রাহকদের ওপর নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে, যা উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনবান্ধব ও কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন সেবার মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ এমনিতেই চাপে রয়েছে। এর মধ্যে ওয়াসার পানির দাম বাড়ানো হলে নগরবাসীর জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই এই প্রস্তাবকে অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
ক্যাব অভিযোগ করে জানায়, ২০১৯ সালের ২৫ মে ওয়াসার ৫১তম বোর্ড সভায় গড় বিল আদায়ের অভিযোগে ২৭ হাজার গ্রাহকের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হলেও আজ পর্যন্ত তদন্তের ফল প্রকাশ কিংবা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি পানির উৎপাদন, বিতরণ ব্যয় নির্ধারণ, ডাটাবেজ ব্যবস্থাপনা এবং বিলিং প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগও পুনরায় তদন্তের দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে সাবেক এমডির আমলে একাধিকবার পানির দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে বলা হয়, তখন ১৪ বারের বেশি মূল্য বৃদ্ধি করা হলেও নগরবাসী এখনো নিরাপদ ও মানসম্মত পানি পাচ্ছে না। অনেক এলাকায় লবণাক্ত, ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি সরবরাহ, ভূতুড়ে বিল এবং নিয়মিত পানির সংকট অব্যাহত রয়েছে।
সংগঠনটি আরও অভিযোগ করে, ওয়াসার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, আত্মীয়স্বজনকে পদোন্নতি ও প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার মতো অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হলেও সেসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিবৃতিতে নগরজুড়ে পানির পাইপলাইনে লিকেজ, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, বিপুল পরিমাণ সুপেয় পানির অপচয় এবং হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় দূষিত পানি সরবরাহের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। গত বছর পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবের পরও ওয়াসার কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলেও দাবি করেছে ক্যাব।
এ ছাড়া, চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ডে ভোক্তা প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে আইন অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়। ক্যাবের দাবি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ভোক্তাদের প্রতিনিধিত্ব করার কথা থাকলেও বাস্তবে গ্রাহকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়নি। তাই ভবিষ্যতে ওয়াসার পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণে প্রকৃত ভোক্তা প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।