পাশাপাশি এ রুটে আরও এক জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের লালব্রিজ এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের দৃষ্টিনন্দন আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করলে যাত্রীসেবার মান কতটা উন্নত করা সম্ভব এবং তা কতটা বাস্তবসম্মত হবে, সেটিই সরকার যাচাই করছে। এ লক্ষ্যে স্টেশনের বর্তমান ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের মানুষের রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে খুব শিগগিরই ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ নামে নতুন এক জোড়া ট্রেন চালু করা হবে। এ ট্রেন চালু হলে চকরিয়াসহ আশপাশের এলাকার যাত্রীরা সহজেই চট্টগ্রামে এসে রাজধানীগামী ট্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবেন।
রেলপথ নির্মাণের পরিবেশগত প্রভাবের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দোহাজারী-কক্সবাজার ১০২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ কাটতে হয়েছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইতোমধ্যে রোপণ করা গাছের অবস্থা পরিদর্শন করা হচ্ছে। পাশাপাশি রেললাইনের দুই পাশে নতুন করে সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণের জন্য স্থান চিহ্নিত করে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার রেলপথে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চকরিয়া, ডুলাহাজারা ও হারবাংসহ রুটের সব ছোট-বড় স্টেশনে আধুনিক আলোকসজ্জা স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সবুক্তগীন মাহমুদ, কক্সবাজার রেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এরশাদুল হক, তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকল্প পরিচালক বিমল সাহা, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমানসহ রেলওয়ে ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
পরে বিকেলে প্রতিমন্ত্রী চকরিয়া উপজেলার পহরচাঁদা ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা রেলপয়েন্ট পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয়দের পক্ষে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার হারবাংয়ের পরিবর্তে মছনিয়াকাটা এলাকায় রেলস্টেশন নির্মাণের দাবি জানান।
স্থানীয়দের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে পর্যটন, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।