মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ ৮০ কিলোমিটার কমানোর পরিকল্পনা, রেলের জমি আর লিজ নয়: প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত নতুন কর্ডলাইন নির্মাণের মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত এই রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে সময় কমবে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ ৮০ কিলোমিটার কমানোর পরিকল্পনা, রেলের জমি আর লিজ নয়: প্রতিমন্ত্রী

একই সঙ্গে নতুন করে রেলের কোনো সম্পত্তি লিজ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যাত্রীসেবা আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে সরকার একাধিক প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত নতুন কর্ডলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রেলপথের দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, পাশাপাশি যাত্রীদের সময় ও ভোগান্তিও হ্রাস পাবে।

তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোর। এই রুটে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর করতে রেলের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে সেবার মান উন্নয়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যাত্রীচাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এ রুটে চার জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। শিগগিরই তা বাড়িয়ে পাঁচ জোড়া করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে প্রতিদিন পাঁচটি করে ট্রেন চলাচল করবে। কক্সবাজারগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ও সৈকত এক্সপ্রেস ট্রেনের সেবায়ও পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। চলতি মাসের মধ্যেই যাত্রীরা এর ইতিবাচক প্রভাব দেখতে পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রেলের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে হাবিবুর রশিদ বলেন, সরকার নতুন করে কোনো রেল সম্পত্তি বা জমি লিজ দেবে না। বর্তমানে যেসব লিজ কার্যকর রয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যেখানে আইনি জটিলতা নেই এবং বাতিলের সুযোগ রয়েছে, সেখানে লিজ বাতিল করে রেলের সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করা হবে। রেলের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন স্থানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে রেলের জমি জনকল্যাণমূলক ও প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণে পরিবেশের ক্ষতির প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ কাটা হয়েছিল। এর পরিবর্তে যে বনায়ন করা হয়েছে, তার বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। কোথাও ঘাটতি থাকলে রেলওয়ে, বন বিভাগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে নতুন করে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

রেলের জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম কিংবা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলপথে মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। নতুন আইন প্রণয়নের পাশাপাশি দেশব্যাপী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য জড়িত থাকলেও ছাড় দেওয়া হবে না। এ সময় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত বিষয়

  • ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন