যদিও দিন শেষে বাজারমূল্য কিছুটা কমে প্রায় ৪ দশমিক ৯৮ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়, তবুও বিশ্বের দ্বিতীয় কোম্পানি হিসেবে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্যের সীমা স্পর্শ করার কৃতিত্ব অর্জন করেছে অ্যাপল।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে লেনদেনের একপর্যায়ে অ্যাপলের বাজারমূল্য ৫ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। এ সময় কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে ৩৪২ ডলার ৮৯ সেন্টে পৌঁছে যায়। তবে লেনদেন শেষে শেয়ারদর কিছুটা কমে ৩৩৯ ডলার ৩৩ সেন্টে নেমে আসে এবং বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৪ দশমিক ৯৮ ট্রিলিয়ন ডলারে।
এনভিডিয়ার পর অ্যাপলের নতুন রেকর্ড
৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্যের মাইলফলক প্রথম স্পর্শ করেছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া। এআই খাতে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর দ্রুত বাড়ে এবং এটি বিশ্বের প্রথম ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়। তবে চলতি মাসের শুরুতে বাজারমূল্যের দিক থেকে এনভিডিয়াকে ছাড়িয়ে আবারও বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির অবস্থান পুনরুদ্ধার করে অ্যাপল।
মঙ্গলবারের লেনদেন শেষে এনভিডিয়ার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার। ওই দিন কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে দাঁড়ায় ১৯৭ ডলার ৬৩ সেন্টে।
বাজারমূল্য বৃদ্ধির পেছনে কী কাজ করেছে
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপলের শক্তিশালী আর্থিক অবস্থান, পণ্যের স্থিতিশীল চাহিদা এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কৌশল বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠানের মতো বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে নিজস্ব এআই অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিবর্তে অ্যাপল অংশীদার প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে এআই সুবিধা যুক্ত করার পথ বেছে নিয়েছে।
এই কৌশলের ফলে কোম্পানিটির মূলধনী ব্যয় তুলনামূলক কম থাকছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মুনাফা ধরে রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিআরআই ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের বিনিয়োগ বিভাগের প্রধান টনি মেডোজ বলেন, একসময় অ্যাপলকে এআই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত অ্যাপলের শেয়ারদর প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রযুক্তি খাতের অনেক শীর্ষ প্রতিষ্ঠানকেও ছাড়িয়ে গেছে।
বিক্রি ও নতুন লিজিং কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাব
সম্প্রতি নতুন ম্যাকবুক ও আইপ্যাডের দাম বাড়ালেও আইফোনের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে অ্যাপল। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেক ক্রেতা আগেভাগেই নতুন আইফোন কিনেছেন, ফলে স্মার্টফোন বিভাগের বিক্রি বেড়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন 'ডিভাইস লিজিং' কর্মসূচিও চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থ পরিশোধ সেবা প্রতিষ্ঠান ক্লারনার সহযোগিতায় চালু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় মাসিক কিস্তিতে আইফোন, আইপ্যাড, অ্যাপল ওয়াচ ও ম্যাক ব্যবহার করা যাবে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় না করেই গ্রাহকদের নতুন ডিভাইস ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ায় এই উদ্যোগ বিক্রি আরও বাড়াতে সহায়ক হবে।
এআই প্রতিযোগিতায় এনভিডিয়ার অবস্থান এখনও শক্তিশালী
অ্যাপল নতুন রেকর্ড গড়লেও এআই অবকাঠামোর বাজারে এনভিডিয়ার আধিপত্য এখনো অটুট। ওপেনএআই, গুগল, অ্যানথ্রোপিক ও মেটাসহ বিশ্বের বড় এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর মডেল তৈরিতে এনভিডিয়ার জিপিইউ ও সিইউডিএ প্ল্যাটফর্ম ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এআই প্রযুক্তির বিস্তার যত বাড়ছে, এনভিডিয়ার কৌশলগত গুরুত্বও তত বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপল ও এনভিডিয়া ভিন্ন ব্যবসায়িক কৌশল অনুসরণ করলেও উভয় প্রতিষ্ঠানের সামনে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা শক্তিশালী। তবে আপাতত বাজারমূল্যের দৌড়ে নতুন ইতিহাস লিখে বিশ্বের দ্বিতীয় কোম্পানি হিসেবে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বহুল আলোচিত মাইলফলক স্পর্শ করেছে অ্যাপল।
