মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

চীনা বিনিয়োগে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঋণনির্ভরতা থেকে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে নিতে চীনা বিনিয়োগকারীদের দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী|

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
চীনা বিনিয়োগে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ

তিনি বলেছেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে একদিকে সহজে মূলধন সংগ্রহ করা যাবে, অন্যদিকে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত হবে| এতে ব্যাংকের উচ্চ সুদের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশের পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী হবে|

অর্থমন্ত্রী একই সঙ্গে ঘোষণা দিয়েছেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড)-এ শেষ পর্যন্ত এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ হবে| এই শিল্পাঞ্চলে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামজুড়ে শিল্প, লজিস্টিকস, আবাসন, সাপ্লাই চেইন ও সেবাখাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটবে| সোমবার সকালে আনোয়ারায় সিইআইজেডের উন্নয়নকাজ ও ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন|

অর্থমন্ত্রী বলেন, "আপনাদের অর্থ সংগ্রহের জন্য পুঁজিবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| কেন উচ্চ সুদে ব্যাংক ঋণ নেবেন? আমাদের পুঁজিবাজার এখন ঊর্ধ্বমুখী| এখানে তালিকাভুক্ত হলে বাংলাদেশিদেরও আপনাদের প্রকল্পে অংশীদার হওয়ার সুযোগ ˆতরি হবে| সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, সিইআইজেড সেই লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম বড় ভিত্তি হবে| সরকারের এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনায়ও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে|

তিনি জানান, বর্তমানে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকলেও অবকাঠামো, শিল্পকারখানা ও আনুষঙ্গিক উন্নয়ন মিলিয়ে প্রকল্পে মোট বিনিয়োগ এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে| এই প্রকল্পের সুফল শুধু আনোয়ারায় সীমাবদ্ধ থাকবে না| পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতি নতুন গতি পাবে| গড়ে উঠবে শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন, সেবাখাত, পরিবহন ব্যবস্থা ও নতুন শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি|

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু ˆতরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়| দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিকস, উচ্চপ্রযুক্তি ও অন্যান্য উৎপাদনমুখী শিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে| তাঁর ভাষায়, "চীনা বিনিয়োগকারীরা এখন শুধু গার্মেন্টস নয়, মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করছে| আমাদের প্রয়োজন প্রযুক্তি স্থানান্তর, নতুন জ্ঞান এবং বহুমুখী শিল্পায়ন|"

তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় সরকার একটি ঋণনির্ভর ও সংকটাপন্ন অর্থনীতি পেয়েছিল| এখন লক্ষ্য হলো বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলে আগামী পাঁচ বছরে ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি| অর্থমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগ সহজ করতে সরকার ডিরেগুলেশন, আইন ও নীতিমালার সংস্কার এবং দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত সিঙ্গেল উইন্ডো সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে| বাংলাদেশ এখন ব্যবসার জন্য ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন উন্মুক্ত| বিনিয়োগের ¯^ার্থে প্রয়োজনীয় যেকোনো নীতিগত পরিবর্তন সরকার করতে প্রস্তুত| বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্জিত মুনাফা ও মূলধন সহজে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও সহজ করা হচ্ছে, যা এতদিন বড় একটি প্রতিবন্ধকতা ছিল|

শিল্পায়নের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের প্রতি আনোয়ারা বা চট্টগ্রামে একটি স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান| এই কেন্দ্র গড়ে উঠলে চীনা ও দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য দক্ষ কর্মী ˆতরি হবে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে| বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে| শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করাকে তিনি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন|

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ¯^রাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশি-বিদেশি সব বিনিয়োগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ| তিনি বলেন, "আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ছাড়া বিনিয়োগ সম্ভব নয়| আবার বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে অর্থনৈতিক অগ্রগতিও সম্ভব নয়| তাই নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত|"

বেজার আওতায় আনোয়ারার ˆবরাগ এলাকায় গড়ে ওঠা চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনকে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে| সংশ্লিষ্টদের মতে, কোরিয়ান ইপিজেডের পর এই প্রকল্প দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিল্পায়নের সবচেয়ে বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে| শিল্পাঞ্চলটি চালু হলে উৎপাদন, রপ্তানি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে|

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ¯^রাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সিইআইজেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ান, সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা|

সম্পর্কিত বিষয়

  • চীনা
  • বাংলাদেশ

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন