মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

ডেঙ্গুর লাল সতর্কতা চট্টগ্রামে, প্রতি চার বাসার একটিতে এডিস লার্ভা

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে| নগরীর প্রতি চারটি বাসা-বাড়ির মধ্যে অন্তত একটিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে|

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
ডেঙ্গুর লাল সতর্কতা চট্টগ্রামে, প্রতি চার বাসার একটিতে এডিস লার্ভা

একই সঙ্গে চলতি জুলাই মাসের মাত্র দুই সপ্তাহে চট্টগ্রাম বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮৫ জনে| ¯^াস্থ্য বিভাগের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে অব্যাহত বৃষ্টিপাত, জমে থাকা পানি এবং জনসচেতনতার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে|

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর বর্তমান চিত্র স্পষ্টভাবে সতর্কবার্তা দিচ্ছে| এখনই উৎস ধ্বংস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ¯^াস্থ্যসেবার প্রস্তুতি জোরদার করা না গেলে আগামী দুই মাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে| বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র কোনো ওষুধ নয়—সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রতিটি নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ|

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় ¯^াস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) এবং মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) যৌথভাবে কাজ করছে| প্রতি শনিবার ¯^াস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে| পাশাপাশি ডেঙ্গু নজরদারি জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে|

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু এখন আর শুধুমাত্র ঢাকাকেন্দ্রিক রোগ নয়; এটি দেশের প্রতিটি বিভাগ ও জেলার জন্য জন¯^াস্থ্যের বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে| চট্টগ্রাম নগরীর ঘনবসতি, অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, জলাবদ্ধতা এবং বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি এডিস মশার বংশবিস্তারকে আরও সহজ করে তুলছে|

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ¯^াস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, নগরীর প্রতি চারটি বাড়ির মধ্যে একটি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাওয়ার তথ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক| এটি শুধু মশার ঘনত্বের ইঙ্গিত নয়, বরং ডেঙ্গু সংক্রমণ বিস্তারের বাস্তব ঝুঁকিরও প্রতিফলন| গত জুন মাসে চট্টগ্রাম বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪০৫ জন| জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই সেই সংখ্যা বেড়ে ৪৮৫ জনে পৌঁছেছে| বর্ষা মৌসুমের মূল সময় এখনো বাকি থাকায় আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে|

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জুন মাসে মহানগর ও জেলায় ডেঙ্গু রোগী ছিল ১২২ জন| জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত এ সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে| এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬১ জন, বিভিন্ন উপজেলায় ৭৪ জন, অন্য জেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ২৯ জন| এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, নগরী ও আশপাশের উপজেলাগুলো সমানভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে|

¯^াস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু বিস্তারের পেছনে কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করছে— ১. ফুলের টব, ছাদ, টায়ার, ড্রাম, পানির ট্যাংক, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানিই এডিস মশার প্রধান প্রজননস্থল| ২. বৃষ্টির পানি বিভিন্ন ছোট-বড় পাত্রে জমে থাকে| এসব স্থানে এডিস মশা দ্রুত ডিম পাড়ে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ মশায় পরিণত হয়| ৩. অনেক মানুষ এখনো মনে করেন মশা মারার দায়িত্ব শুধু সিটি করপোরেশনের| অথচ গবেষকরা বলছেন, এডিস মশার প্রায় ৮০ শতাংশ প্রজননস্থল ব্যক্তিগত বাসাবাড়ি ও ভবনের ভেতরে|

দীর্ঘদিন ধরে মশা নিয়ে গবেষণা করা কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার সতর্ক করে বলেছেন, আগামী আগস্ট ও সেপ্টে¤^র মাস ডেঙ্গুর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে| তার মতে, এডিস মশার ঘনত্ব, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা ও রোগীর সংখ্যা বিশ্লেষণ করে ˆতরি করা পূর্বাভাস মডেল বলছে—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, চাঁদপুরসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলা উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে| এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে ডেঙ্গু জ্যামিতিক হারে বাড়তে পারে|

সম্পর্কিত বিষয়

  • ডেঙ্গু

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন