সরকারের পক্ষে একবারে সব ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব না হলেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে| শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন|
মন্ত্রী জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শতভাগ গবাদিপশুকে ক্ষুরা রোগ (এফএমডি) প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনা হবে| ছয় মাস আগে যেসব পশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাদেরও পুনরায় টিকা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে| একটি গবাদিপশুর মৃত্যু একজন খামারির জন্য বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ| সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সরকার দ্রুত ভ্যাকসিন কার্যক্রম জোরদার করছে|
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বীজ, সার, গবাদিপশুর ভ্যাকসিনসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে| তবে এসব সহায়তা অবশ্যই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে পৌঁছাতে হবে এবং কেউ যেন বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে| তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বীজ, সার ও ভ্যাকসিন বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা অতিরিক্ত অর্থ আদায় সহ্য করা হবে না|
এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান 'জিরো টলারেন্স'| কোথাও অনিয়ম বা অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে| জীবনের দুঃসময়ে সরকার ও সমাজ যদি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পায়| বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের পুনর্বাসনে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে|
সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আপ্রু মারমা এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ˆসয়দ মাহবুবুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন|
