নিহতরা হলেন পটিয়া উপজেলার হুলাইন এলাকার ইয়াসিন আউলিয়ার মাজার বাড়ির মোহাম্মদ আলম (৪৫) এবং বোয়ালখালীর দিদারুল আলম (৩২)। বৃহস্পতিবার রাতে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বোয়ালখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গোমদণ্ডীতে অবস্থিত কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেড কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন মজুমদার জানান, বিস্ফোরণে আহত ১১ শ্রমিকের মধ্যে ১০ জনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজন মারা যান।
চমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, দগ্ধদের মধ্যে শরীরের অধিকাংশ অংশ পুড়ে যাওয়ায় পাঁচজনকে আইসিইউ এবং তিনজনকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত দিদারুল আলমের শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং মোহাম্মদ আলমের ৬৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
এছাড়া আহতদের মধ্যে মাহমুদুল হকের শরীরের ৬০ শতাংশ, উজ্জ্বল দাশের ৫০ শতাংশ, নূর নবীর ৪৫ শতাংশ, মোহাম্মদ লিটনের ৪০ শতাংশ, জাহিদুল আলমের ৩৫ শতাংশ, সেলিম উদ্দিনের ২০ শতাংশ এবং জাহিদ হোসেন ও সিরাজুল ইসলামের ১০ শতাংশ করে দগ্ধ হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুজন আহত শ্রমিক বাড়ি ফিরে গেছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, কারখানার বড় জেনারেটরসহ কয়েকটি যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ায় সেগুলো মেরামতের জন্য পাঁচটি ওয়েল্ডিং মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছিল। কাজ চলাকালে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে সেখানে থাকা দুটি এসি বিস্ফোরিত হলে শ্রমিকরা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, "ওয়েল্ডিংয়ের কারণে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাপ ও ভোল্টেজ ওঠানামার একপর্যায়ে আগুন লাগে। এরপর দুটি এসি বিস্ফোরিত হয়। এসির গ্যাস বিস্ফোরণের কারণে ঘটনাস্থলে থাকা শ্রমিকরা গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন।"
তিনি জানান, আহতদের কয়েকজনের বাড়িতে পুলিশ গেলেও পরিবারের সদস্যদের পাওয়া যায়নি। তারা হাসপাতালে অবস্থান করছেন। কেউ অভিযোগ বা মামলা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানায়, দগ্ধ ১০ শ্রমিকের মধ্যে পাঁচজন কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের নিজস্ব শ্রমিক এবং অপর পাঁচজন ঠিকাদারের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন বোয়ালখালীর জাহিদ হোসেন, নূর নবী ও দিদারুল আলম, রাঙ্গুনিয়ার উজ্জ্বল দাশ, সদরঘাটের মোহাম্মদ লিটন, লোহাগাড়ার সিরাজুল ইসলাম, রাউজানের জাহিদুল আলম, পটিয়ার মোহাম্মদ আলম ও মাহমুদুল হক এবং চন্দনাইশের সেলিম উদ্দিন ও আহসানুল হক।
বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফারজানা জানান, আহসানুল হককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহত শ্রমিকদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মোহাম্মদ আজাহার জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে রওনা হলেও পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানানো হলে তারা ফিরে আসেন।
ঘটনার বিষয়ে কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের এজিএম বোরহান উদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
