বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সুপারিশের ভিত্তিতে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১৮ মে’র মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চাকরিতে যোগদানে অনিচ্ছুক বলে বিবেচিত হবেন এবং তার নিয়োগপত্র বাতিল হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা রক্ষার স্বার্থে তাদের ব্যাচের প্রথম নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষিকভাবে নিয়োগ কার্যকর হবে। অর্থাৎ, ব্যাচের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা বজায় থাকবে। তবে এ সুবিধার বিপরীতে তারা কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা পাবেন না।
২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৩ হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হন। কিন্তু ওই বছরের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করে দেয়। পরে দ্বিতীয় দফায় মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষার ফল অনুযায়ী ৩ হাজার ২২৯ জন উত্তীর্ণ হন এবং তাদের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাদ পড়া প্রার্থীদের একটি অংশ আদালতের দ্বারস্থ হন।
এ নিয়ে হাইকোর্টে তিনটি পৃথক রিট দায়ের করা হয়। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্ট প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের সিদ্ধান্তকে বৈধ ঘোষণা করেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন রিট আবেদনকারীরা।
অবশেষে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ নিয়োগবঞ্চিত ১ হাজার ১৩৭ জনকে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং তা বাস্তবায়নে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার আরও ৯৬ জনকে ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।
