মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

বৈসাবি উৎসবে উৎসবমুখর রাঙামাটি, বিজু মানে অস্তিত্ব, বিজু মানে সংস্কৃতি

বর্ষ বিদায় ও বরণকে কেন্দ্র করে ‘বৈসাবি উৎসব’ ঘিরে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি এখন উৎসবমুখর। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৃহত্তম এই সামাজিক উৎসবকে কেন্দ্র করে শহর, নগর ও পাহাড়ি পল্লিগুলোতে শুরু হয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের আয়োজন।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
বৈসাবি উৎসবে উৎসবমুখর রাঙামাটি, বিজু মানে অস্তিত্ব, বিজু মানে সংস্কৃতি

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল থেকে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান, পাতা ও বিহু উপলক্ষে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী নানা ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান, পাতা ও বিহু উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার।

sangrai.jpg

সাবেক উপসচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য উষাতন তালুকদার। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশনের পর অতিথিরা বেলুন উড়িয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

জুম্ম জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব সংরক্ষণ এবং অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

উৎসব উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।

এতে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা নিজ নিজ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নেন। পরে রাঙামাটির চিংহ্লামং মারী স্টেডিয়ামে শুরু হয় চার দিনব্যাপী উৎসবের মূল আয়োজন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উষাতন তালুকদার বলেন, “পাহাড়ের ১৩টি ভাষাভাষী মানুষ বর্ষ বিদায় ও বরণকে কেন্দ্র করে এই উৎসব পালন করেন। বিজু মানে অস্তিত্ব, বিজু মানে সংস্কৃতি। আমরা ইতোমধ্যে অনেক ভাষা ও সংস্কৃতি হারিয়ে ফেলেছি। তাই নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি যেন হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলকে অবহেলা না করে অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে হবে। “আমরাও বাংলাদেশের নাগরিক। মানুষের মতো মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে চাই। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাগুলো জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা—সদিচ্ছা থাকলে অবশ্যই সমাধান সম্ভব,” যোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাবেক যুগ্ম সচিব কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা ও উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদার।

চার দিনব্যাপী এ উৎসবে ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলাধুলা, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পিঠা উৎসব, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মঞ্চনাটক অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকরা জানান, আগামী ১২ এপ্রিল এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ হবে। এছাড়া ১৭ এপ্রিল মারমা সংস্কৃতি সংস্থার সাংগ্রাই জল উৎসবের মধ্য দিয়ে পার্বত্য রাঙামাটিতে বৈসাবি উদযাপনের সমাপ্তি ঘটবে।

সম্পর্কিত বিষয়

  • বৈসাবি
  • রাঙামাটি

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন