কর্ণফুলী চ্যানেলসহ বন্দর সীমানার বিভিন্ন নেভিগেশনাল চ্যানেলে এখন অনুসরণ করা হচ্ছে একটি আধুনিক, সাশ্রয়ী ও কার্যকর মডেল—যা ইতোমধ্যে আর্থিক ও অপারেশনাল উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে গত এক বছরে বন্দর কর্তৃপক্ষের সাশ্রয় হয়েছে ৫০ কোটি টাকা।
বন্দর সূত্র জানায়, কর্ণফুলী নদী-এর মোহনা থেকে প্রধান জেটি হয়ে কালুরঘাট পর্যন্ত নাব্যতা রক্ষায় হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি কাজের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ড্রেজিং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে ঠিকাদার নিয়োগ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কাজগুলোকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের ফলে কাজের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি নিশ্চিত হয়েছে গুণগত মান। আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থার কারণে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রবণতাও কমে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত এক বছরে বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ড্রেজার ব্যবহার এবং পরিকল্পিত বাস্তবায়নের মাধ্যমে ড্রেজিং খাতে অন্তত ৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। এটি শুধু একটি আর্থিক সাফল্য নয়, বরং দক্ষ ব্যবস্থাপনার একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এই সাফল্যের পেছনে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি এবং প্রশাসনিক কঠোরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর ফলে ড্রেজিংয়ের প্রকৃত পরিমাণ ও গুণগত মান নিশ্চিত হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব হচ্ছে।
পরিকল্পিত ড্রেজিং কার্যক্রমের ফলে বন্দরের নৌ-চ্যানেলগুলোতে প্রয়োজনীয় নাব্যতা বজায় থাকছে। এর ফলে বড় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে। এতে পণ্য খালাস ও হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নৌ-রুটে বন্দরের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
এছাড়া সদরঘাট থেকে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর উজানে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার এলাকায় পরিচালিত ড্রেজিংয়ের ফলে লাইটার জাহাজসহ অন্যান্য নৌযানের সুশৃঙ্খল বার্থিং নিশ্চিত হয়েছে। এতে নৌ দুর্ঘটনার হারও কমেছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শহরের সঙ্গে সংযুক্ত আটটি গুরুত্বপূর্ণ খালের মুখে ড্রেজিংয়ের ফলে পানি নিষ্কাশন সহজ হয়েছে। এই কাজটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-এর মাধ্যমে করা হলে অতিরিক্ত অন্তত ৮৫ কোটি টাকা ব্যয় হতো, যা বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সাশ্রয় হয়েছে। ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকছে এবং পলি জমার প্রবণতা কমেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বন্দরসহ বেসরকারি জেটি ও বার্থগুলোর ওপরও।
ড্রেজিং খাতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ এখন বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এর ফলে শুধু বন্দর নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও টেকসই উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে বিশ্বমানের আধুনিক বন্দরে রূপান্তরের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
