মহান স্বাধীনতার মাস উপলক্ষে নগরীর কাজীর দেউরী জেলা স্টেডিয়াম জিমনেসিয়াম মাঠ প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া ১৯ দিনব্যাপী “মহান স্বাধীনতা বইমেলা-২০২৬”-এর উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি পাহাড়তলী বধ্যভূমিসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান এবং প্রকৃত শহীদদের তালিকা প্রণয়নে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা কামনা করেন।
নগর পরিচালনা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে এখনো পূর্ণাঙ্গ সিটি গভর্নমেন্ট ব্যবস্থা চালু হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে স্থানীয় সরকার সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ে। তবুও চসিকের আওতাধীন এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে কাজ চলমান রয়েছে।
মেয়র বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। অনেক মুক্তিযোদ্ধা এখনো কষ্টে জীবনযাপন করছেন—তাদের জন্য ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও স্পোর্টস কার্ডের মতো বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করা হচ্ছে।
বইমেলার গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না; বরং জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি সংস্কৃতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, চসিক পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়-এ ই-লাইব্রেরি চালু রয়েছে।
মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই মিলে চট্টগ্রামকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও জ্ঞানভিত্তিক নগরীতে পরিণত করা সম্ভব।
মেলায় প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে ১২৯টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে—এর মধ্যে ৩৫টি ডাবল ও ৯৪টি সিঙ্গেল স্টল। চট্টগ্রাম ও ঢাকার স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১২টি প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিচ্ছে।
প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় রবীন্দ্র ও নজরুল উৎসব, বৈশাখী আয়োজন, লেখক সমাবেশ, শিশু ও যুব উৎসব, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠান, কবিতা-ছড়া উৎসব, আলোচনা সভা এবং লোকজ ও নৃগোষ্ঠী সংস্কৃতি বিষয়ক নানা আয়োজন থাকছে।
চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিজনরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামীকাল বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মেলা মঞ্চে “একটি দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষিত জাতির বিকল্প নেই” শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বিজিএমইএ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল করিম।
