মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাইয়ে ধীরগতি, আড়াই লাখকে নাগরিক হিসেবে শনাক্ত: সংসদে তথ্য

এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো রোহিঙ্গাদের তালিকা থেকে মাত্র সাড়ে তিন লাখ মানুষের তথ্য যাচাই করেছে মিয়ানমার, যার মধ্যে আড়াই লাখের বেশি মানুষকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে দেশটি।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাইয়ে ধীরগতি, আড়াই লাখকে নাগরিক হিসেবে শনাক্ত: সংসদে তথ্য

সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদ-এর প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী-এর প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে জবাব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে তিনটায় অধিবেশন শুরু হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৬ ধাপে মোট ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জন রোহিঙ্গার তথ্য মিয়ানমার সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫১ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। যাচাইকৃতদের মধ্যে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৬৪ জনকে ‘পূর্বে মিয়ানমারে বসবাসকারী ব্যক্তি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে দেশটি।

মন্ত্রী জানান, মিয়ানমারের চলমান সংঘাত পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হচ্ছে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।

তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কূটনৈতিক, আইনি ও মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা জোরদারে কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত-এ ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলার কার্যক্রম পরিচালনায় বাংলাদেশ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইউরোপ ও আমেরিকার প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান অর্থনীতিতে নতুন বাজার অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

তিনি জানান, সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (পিটিএ) এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা চলছে, যা বাস্তবায়িত হলে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

সরকার রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বহুমাত্রিক রপ্তানি কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করতে দূতাবাসগুলো ‘ডায়াসপোরা এনগেজমেন্ট’ কার্যক্রম জোরদার করেছে।

এদিকে পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে জানান, শ্রম জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ৭ কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ৪ কোটি ৮০ লাখ ২০ হাজার এবং নারী ২ কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার। প্রতি বছর প্রায় ১৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ নতুন করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সম্পর্কিত বিষয়

  • রোহিঙ্গা
  • সংসদ

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন