মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

চমেক হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের বেশিরভাগই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত, হাম নিয়ে আতঙ্ক নয়: মেয়র

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন ১৮ জন শিশুর মধ্যে ১৭ জনই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
চমেক হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের বেশিরভাগই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত, হাম নিয়ে আতঙ্ক নয়: মেয়র

এছাড়া ১ জন শিশু হাম এবং ১ জন রুবেলায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের মিজেলস ব্লক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

মেয়র বলেন, দেশে শিশুদের মধ্যে হাম-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও চট্টগ্রামে এখনও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক নয়। সম্প্রতি যে পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারা মূলত সেকেন্ডারি নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় মারা গেছে, হামজনিত কারণে নয়।

আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বর বা শরীরে র‌্যাশ দেখা দিলেই তা হাম নয়; অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুরা নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। নিউমোনিয়া গুরুতর হলে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। গুরুতর অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ২০ শয্যার নিওনেটাল আইসিইউ ও পেডিয়াট্রিক আইসিইউ সুবিধা রয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়মিত ইপিআই টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি ১০ বছর বয়সী মেয়েদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি ভ্যাকসিন এবং ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ১০ লাখ শিশুকে টাইফয়েড ভ্যাকসিন দিয়েছে। বর্তমানে টিকার কোনো ঘাটতি নেই বলেও জানান তিনি।

মেয়র একজন চিকিৎসক হিসেবে গর্ভকাল থেকে শুরু করে শিশুর জন্মের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সব টিকা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ সম্ভব।

এর আগে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, ২৯ মার্চ রাত ১০টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল-এ ২ জন, চমেক হাসপাতালে ১১ জন এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল-এ ৪ জন রোগী সন্দেহজনক হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা কার্যক্রম চলছে এবং নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর কোনো তথ্য নথিভুক্ত হয়নি।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউমোনিয়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চমেক হাসপাতালে হামের জন্য আলাদা বিশেষ কর্নারও চালু করা হয়েছে।

চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মোহাম্মদ মুছা মিঞা বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা কাশি-হাঁচির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি—এগুলো হামের সাধারণ উপসর্গ। জটিলতা দেখা দিলে নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য সমস্যা হতে পারে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ হাম টিকা দেওয়া হয়। ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা, যাদের এখনও টিকা দেওয়ার বয়স হয়নি, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সম্পর্কিত বিষয়

  • চমেক
  • মেয়র
  • নিউমোনিয়া
  • হাম

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন