এগিয়ে আছে বিগত অর্থবছরের চাইতেও। আলোচ্য অর্থবছরে বিএসসির কর পরবর্তী নীট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩০৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫৭ কোটি টাকা বেশি।
সরকারি ও নিজস্ব অর্থায়নে নতুন ট্যাংকার ও বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ সংগ্রহের পাশাপাশি জি-টু-জি ভিত্তিতে ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকার এবং মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কন্টেইনার পরিবহন খাতে অংশগ্রহণ বাড়াতে ১২টি নতুন কন্টেইনার জাহাজ অর্জনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে বিএসসি।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের বোট ক্লাবে অনুষ্ঠিত বিএসসির ৪৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)-এ এসব তথ্য জানান বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক। সভায় সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং বিএসসি পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, এনডিসি। এছাড়া বিএসসি পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ ও শেয়ারহোল্ডাররা সভায় অংশ নেন।
কমডোর মাহমুদুল মালেক ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সার্বিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে গিয়ে প্রতিবেদনে জানান, আলোচ্য অর্থবছরে বিএসসির পরিচালন আয় ছিল ৫৯০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আয় হয়েছে ২০৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৭৯৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, পরিচালন ব্যয় হয়েছে ২৮৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং প্রশাসনিক ও আর্থিক খাতে ব্যয় হয়েছে ১২৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ফলে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৪১৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিএসসির মোট আয় ছিল ৫৯৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং ব্যয় ছিল ৩১১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সে বছর কর পরবর্তী নীট মুনাফা ছিল ২৪৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
সভায় পরিচালনা পর্ষদ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নীট মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করে। নিজস্ব অর্থায়নে নতুন জাহাজ ক্রয়ের পরিকল্পনার কারণে গত বছরের সমপরিমাণ লভ্যাংশ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। ভবিষ্যতে লাভের ধারা অব্যাহত থাকলে লভ্যাংশের হার বাড়ানোর আশাবাদও ব্যক্ত করা হয়। নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিএসসির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৮২ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং মোট বহিঃদেন ১ হাজার ৯৮৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
বিএসসির জনবল পরিস্থিতি সম্পর্কে সভায় জানানো হয়, বিএসসির শোর এস্টাব্লিশমেন্টে অনুমোদিত জনবল ১ হাজার ৫২১ জন। এর মধ্যে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত অফিসে কর্মরত ছিলেন ২২৫ জন এবং জাহাজে কর্মরত ছিলেন ১৪৭ জন কর্মকর্তা ও নাবিক।
সভায় উন্নয়ন প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে জানানো হয়, সরকারের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় বিএসসি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বহরে নতুন বাণিজ্যিক জাহাজ সংযোজনের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে চীন সরকারের ঋণ সহায়তায় ৬টি নতুন জাহাজ ক্রয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫টি জাহাজ বর্তমানে বিএসসির বহরে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ অর্জনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ইতোমধ্যে বহরে যুক্ত হয়েছে এবং অপরটি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সরবরাহ পাওয়ার কথা রয়েছে।
