মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় এপিএম টার্মিনালস চুক্তি এ সপ্তাহে

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছে ডেনমার্কভিত্তিক শিপিং জায়ান্ট মায়ের্সক গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস বি.ভি.। এ সপ্তাহেই সরকারের সঙ্গে ৩০ বছরের কনসেশন চুক্তি সই হতে যাচ্ছে। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ ঘোষণা দেন।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় এপিএম টার্মিনালস চুক্তি এ সপ্তাহে

ড. ইউনূস বলেন, ইউরোপীয় এই কোম্পানি ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে—যা বাংলাদেশে ইউরোপীয় কোনো কোম্পানির একক সর্বোচ্চ বিনিয়োগ। অভ্যুত্থান-পরবর্তী গভীর সংকট থেকে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানো বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

গত ১৫ মাসে সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। প্রথম বছরেই প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) ১৯.১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে—যা বৈশ্বিক প্রবণতার বিপরীতে একটি বিরল দৃষ্টান্ত। ব্যাংকিং খাত লুটপাটের পর পুনরুদ্ধার হয়েছে, মানুষের আস্থাও ফিরেছে। রপ্তানি, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ বেশিরভাগ সূচকই ধীরে ধীরে ইতিবাচক ধারায় ফিরছে।

বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, এই প্রকল্প পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে বাস্তবায়িত হবে। ডিজাইন, অর্থায়ন, নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে এপিএম টার্মিনালসের। মালিকানা থাকবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতে। এতে সরকারের মূলধনী ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এপিএম টার্মিনালস বিশ্বের ৩৩ দেশে ৬০টির বেশি টার্মিনাল পরিচালনা করে এবং শীর্ষ ২০ বন্দরের মধ্যে ১০টির অপারেটর। এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে তারা বাংলাদেশে বিশ্বমানের প্রযুক্তি, দক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে আসবে।

লালদিয়া টার্মিনাল হবে বাংলাদেশের প্রথম সবুজ ও স্মার্ট পোর্ট। এর সুবিধাসমূহ: দ্বিগুণ আকারের জাহাজ ধারণক্ষমতা, ২৪ ঘণ্টা নেভিগেশন সুবিধা, ডিজিটাল টার্মিনাল ম্যানেজমেন্ট, ফ্লো প্রসেস ও লিন মেথডোলজি, আন্তর্জাতিক মানের এইচএসএসই নীতি, রপ্তানি-আমদানি ব্যয় কমে আসা, সরাসরি বৈশ্বিক শিপিং কানেক্টিভিটি। চুক্তির পুরো মেয়াদে এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগ ৮০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে—যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ইউরোপীয় ইক্যুইটি বিনিয়োগ।

বন্দর সক্ষমতায় বড় পরিবর্তনে এলসিটি চালু হলে: বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৮ লাখ টিইইউস বাড়বে, যা বর্তমান সক্ষমতার তুলনায় প্রায় ৪৪ শতাংশ বেশি, টার্মিনালটি ২০৩০ সালের মধ্যে চালুর লক্ষ্য, জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমবে, কনটেইনার ডওয়েল টাইম কমে রপ্তানিকারকদের ডেলিভারি সময় আরও নির্ভরযোগ্য হবে, পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও হালকা প্রকৌশল শিল্প বিশেষভাবে উপকৃত হবে।

কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রভাবে সরাসরি কর্মসংস্থান হবে ৫০০ থেকে ৭০০ জন। এরমধ্যে পরোক্ষ কর্মসংস্থান হবে কয়েক হাজার, নতুন আইসিডি, কোল্ড চেইন, লজিস্টিকস, শিল্পাঞ্চল বিস্তার। কার্বন নির্গমন কমাতে আধুনিক প্রযুক্তিব্যবহারে প্যারিস চুক্তির এনডিসি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।

বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, “লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্প বাংলাদেশের বন্দর খাতকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাবে। এটি শুধু অবকাঠামো নয়—লজিস্টিক খাতকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবে এবং রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও এফডিআই প্রবৃদ্ধির নতুন যুগের সূচনা করবে।”

সম্পর্কিত বিষয়

  • লালদিয়া টার্মিনাল
  • এপিএম টার্মিনালস বি.ভি

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন