মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

সিইউএফএল ৭ মাস পর দৈনিক উৎপাদন ৪ কোটি টাকার সার

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) একটি প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। প্রায় সাত মাস বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদন শুরু করেছে। গ্যাস সংকটের কারণে গত ১১ এপ্রিল থেকে সিইউএফএলের উৎপাদন বন্ধ ছিল।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
সিইউএফএল ৭ মাস পর দৈনিক উৎপাদন ৪ কোটি টাকার সার

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি টাকার সার উৎপাদন ব্যাহত হয়। ১৯ অক্টোবর থেকে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু হলে যান্ত্রিক প্রস্তুতি শেষে শনিবার (১ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টা থেকে ইউরিয়া উৎপাদন কার্যক্রম চালু হয় বলে জানিয়েছেন সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, “গত ১৯ অক্টোবর থেকে গ্যাস সরবরাহ পেয়েছি। এখন পুরোদমে ইউরিয়া উৎপাদন চলছে। ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহে দৈনিক উৎপাদন সম্ভব ৪ কোটি টাকার গ্যাস। সরবরাহ বন্ধ না হলে এবং কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি না দেখা দিলে উৎপাদন অব্যাহত থাকবে।”

জানা গেছে, বর্তমানে দৈনিক ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করা হচ্ছে। প্রতি টন ইউরিয়ার বাজারমূল্য প্রায় ৩৮ হাজার টাকা, ফলে প্রতিদিন প্রায় ৪ কোটি টাকার সার উৎপাদন হচ্ছে। পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের জন্য কারখানাটিতে প্রতিদিন ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে গত অর্থবছরে কারখানাটি মাত্র আড়াই লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করতে পেরেছে।

কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে প্রতিবছর ইউরিয়া সারের চাহিদা প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বিসিআইসির (বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন) বিভিন্ন কারখানাসহ সিইউএফএল দেশীয়ভাবে প্রায় ১০ লাখ টন উৎপাদন করে, বাকি ১৬ লাখ টন ইউরিয়া আমদানি করতে হয় সরকারকে। অথচ কারখানা বন্ধ থাকার সময় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় গত সাড়ে ছয় মাসে প্রায় সাড়ে ৮০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন সম্ভব হয়নি, যা কৃষিখাতের সরবরাহে প্রভাব ফেলেছিল।

সিইউএফএল সূত্র জানায়, ১৯৮৭ সালের ২৯ অক্টোবর জাপানের কারিগরি সহায়তায় কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে আনোয়ারার রাঙ্গাদিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় সিইউএফএল। পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে গত অর্থবছরে কারখানাটিতে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদিত হয়।

বাংলাদেশে প্রতি বছর ইউরিয়া সারের চাহিদা প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন, যার মধ্যে সিইউএফএলসহ বিসিআইসির অন্যান্য কারখানা মিলিয়ে ১০ লাখ টন উৎপাদন হয়। বাকি ১৬ লাখ টন সার আমদানি করতে হয় সরকারকে। শুরুতে কারখানাটির দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদনক্ষমতা ছিল ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। বর্তমানে তা ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। এ ছাড়া কারখানাটি বছরে প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদন করতে সক্ষম।

সিইউএফএলের পুনরায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। তারা আশা করছেন, গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল থাকলে কারখানার ধারাবাহিক উৎপাদন কৃষিখাতের সার সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, কয়েক বছর ধরে কখনো যান্ত্রিক ত্রুটি, কখনো গ্যাসসংকটে দীর্ঘ সময় বন্ধ থেকেছে কারখানা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শুধু পাঁচ দিন চালু ছিল সিইউএফএল কারখানা।

গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে। টানা ১০ মাস বন্ধের পর ১৩ অক্টোবর সিইউএফএল চালু হয়। তবে এ বছরের ৩ জানুয়ারি আবারও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে দীর্ঘ সময় লাগে কারখানাটি চালু করতে। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত আড়াইটার সময় কারখানা চালু হলেও ১১ এপ্রিল গ্যাসসংকটে আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

সম্পর্কিত বিষয়

  • সিইউএফএল
  • বিসিআইসি
  • গ্যাস
  • কেজিডিসিএল

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন