রবিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিতিতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরে ভারী যানবাহন প্রবেশের ফি (গেট পাস) ৫৭ টাকা থেকে এক লাফে ২৩০ টাকা করা হয়। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে নতুন ট্যারিফ শিডিউলে পণ্যবাহী গাড়ির গেট পাসের ফি বৃদ্ধির ঘটনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রাইম মুভার, ট্রেইলার মালিকরা নিজেদের গাড়ি চালাচ্ছেন না ১৪ অক্টোবর রাত থেকে। একই দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আন্তঃজেলা ট্রাক মালিক সমিতি। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা পালন করছে চার ঘণ্টার কর্মবিরতি। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে একধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।
চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ও ফ্লাটবেড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, “এটি কোনো ধর্মঘট নয়। গেট পাস ফি বাড়ানোর অন্যায্য সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মালিকরা গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছেন। বন্দর চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনার পরই আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছি।
চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া জানান, “সিঅ্যান্ডএফ মালিক ও শ্রমিকরা সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চার ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন। সমস্যার সমাধান হয়ে গেলে কঠোর কর্মসূচির আর প্রয়োজন কোথায়।”
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি, ট্রেইলার গতকাল থেকে বন্ধ। আমদানি পণ্য ডেলিভারি বন্ধ ছিল। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে বন্দরে যানবাহনের প্রবেশ মাশুল যেটা বৃদ্ধি করা হয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সেটা স্থগিত থাকবে।
বন্দর সচিব জানান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাবে। সেটা ফাইনালি অনুমোদন হয়ে এলে আপনারা জানতে পারবেন কীভাবে এটা রিফিক্স হচ্ছে। সেই সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বর্ধিত মাশুল স্থগিত থাকবে। উপস্থিত শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধিরা আশ্বস্ত করেছেন তারা কাজে ফিরে যাবেন। বাইরে প্রায় ৬ হাজার ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান অপেক্ষা করছে। এসব বন্দরে ডেলিভারি বা রপ্তানি কাজে নিয়োজিত হয়েছে।
