অথচ সরকারি প্রজ্ঞাপনে আল-আমিনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
দুই মাসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারি তালিকায় থাকা ৮৩৪ শহীদের মধ্যে অন্তত ৫২ জন প্রকৃত শহীদ নন। নিহতদের স্বজনদের স্বীকারোক্তি, মামলার নথি এবং পুলিশি তদন্ত বলছে, অনেকেই আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিহত হননি; কেউ অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা ব্যক্তিগত বিরোধে প্রাণ হারিয়েছেন।
আল-আমিনের বোন বলেন, হত্যার ঘটনায় তাঁরা ওয়ারী থানায় মামলা করেছেন এবং আসামিরা আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। শহীদ তালিকায় নাম ওঠার বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।
একইভাবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের অটোরিকশাচালক জামাল উদ্দিনও (৩৫) শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অথচ থানার নথি অনুযায়ী, তিনি ১৯ জুলাই রিকশা চালানোর সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে হাসপাতালে মারা যান। জামালের বোন রিনা বেগম স্বীকার করেছেন, তাঁর ভাই আন্দোলনে অংশ নেননি, তবু পরিবারটি সরকারি সহায়তার ১০ লাখ টাকা পেয়েছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতিটি শহীদ পরিবারকে এককালীন ৩০ লাখ টাকা সহায়তা, মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা এবং ঢাকায় ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রকল্প চালু রয়েছে। এ কারণেই অনেকে শহীদ তালিকায় নাম তুলতে উদ্যোগী হয়েছেন বলে স্বজনরা স্বীকার করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, তালিকাটি পুনরায় যাচাই-বাছাই চলছে। এরই মধ্যে সব জেলা প্রশাসককে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, “আন্দোলনে যাঁদের সম্পৃক্ততা নেই, তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হবে।”
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে প্রথম শহীদের তালিকা শুরু হয়। পরের মাসে আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকার শহীদদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিলেও এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি।
