তাদের আশঙ্কা, এই বাড়তি খরচ রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং বিদেশি ক্রেতারা প্রতিযোগী বাজারে (চীন, ভিয়েতনাম) সরে যেতে পারেন। প্রায় দেড় মাস আগে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন (বিআইসিডিএ) চার্জ বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়।
বিএফএ’র সদস্য আবরারুল আলম জানান, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী— ২০ ফুট কনটেইনারের চার্জ ৬ হাজার ১৮৭ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ৯০০ টাকা, ৪০ ফুট কনটেইনারের চার্জ ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩ হাজার ২০০ টাকা, ৪৫ ফুট হাই-কিউব কনটেইনারের চার্জ ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪ হাজার ৯০০ টাকা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “জুলাই মাসে দেশে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৫৫ শতাংশ, অথচ হ্যান্ডেলিং চার্জ ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিছু সেবায় কার্যত ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে—যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক জানিয়ে আবরারুল আলম জানান, এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমসকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি: চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করা, সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা, সেবা-মান, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ রুহুল আমিন শিকদার বলেন, “অস্বাভাবিকভাবে নিচু রেটকে স্বাভাবিক পর্যায়ে আনা হচ্ছে। অন্যথায় অপারেটরদের ব্যবসায়িক টেকসইতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”
রপ্তানি কনটেইনারে একাধিক শিপারের মাল থাকে, ফলে সাজানো, গুদামজাতকরণ ও অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হয়। এই চাহিদা আমদানিতে নেই। তাই এতদিন রপ্তানিকারকদের জন্য চার্জ ছিল অস্বাভাবিকভাবে কম। বাস্তবে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, কর্মী ও জ্বালানি খরচ মিলিয়ে ২০ ফুট কনটেইনারের খরচই ঘোষিত রেটের চেয়ে বেশি।
রুহুল আমিন আরও বলেন, “২০২০-২২ মেয়াদে জাহাজ ভাড়া বহুগুণ বেড়েছিল, তখনও বিদেশি ক্রেতারা সেই খরচ বহন করেছিলেন। তাই বর্তমান ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধিও ক্রেতারা বহন করতে পারবেন, যদি প্রয়োজন মনে হয়।”
