মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনারপ্রতি মাশুল বাড়বে ৪ হাজার ৪০০ টাকা

এবিসি ডেস্ক : চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনারপ্রতি গড়ে মাশুল বাড়তে যাচ্ছে ৪ হাজার ৩৯৫ টাকা।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনারপ্রতি মাশুল বাড়বে ৪ হাজার ৪০০ টাকা

বর্তমানে প্রতিটি ২০ ফুট কনটেইনার থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ গড়ে মাশুল আদায় করে ১১ হাজার ৮৪৯ টাকা। নতুন মাশুল কার্যকর হলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ১৬ হাজার ২৪৩ টাকায়।

আমদানি কনটেইনারে মাশুল বাড়বে ৫ হাজার ৭২০ টাকা এবং রপ্তানি কনটেইনারে বাড়বে ৩ হাজার ৪৫ টাকা। তবে নতুন মাশুল কার্যকর হলে আমদানি–রপ্তানিতে বাড়তি খরচের চাপ পড়বে ব্যবসায়ীদের ওপর, যার প্রতিফলন শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ঘাড়েই পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ মন্ত্রণালয় গত ২৪ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন মাশুল অনুমোদন দেয়। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে গেজেট প্রকাশ হলেই কার্যকর হওয়ার কথা। তবে একলাফে গড়ে ৪১ শতাংশ মাশুল বাড়ানো নিয়ে ব্যবহারকারীরা আপত্তি জানায়। আপত্তি বিবেচনায় নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আজ সোমবার বিকেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবহারকারীদের নিয়ে সভা ডেকেছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন।

কেন বাড়ছে মাশুল

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯৮৬ সালের পর এবারই প্রথম বড় পরিসরে মাশুল বাড়ানো হচ্ছে। আশপাশের দেশের তুলনায় এখনো মাশুল কম রয়েছে। নতুন মাশুল কার্যকর হলে বন্দরের আয় গড়ে ৪১ শতাংশ বাড়বে এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকবে, কারণ সব মাশুল ডলারে নির্ধারিত হয়।

প্রস্তাবিত নতুন মাশুলে সবচেয়ে বেশি বাড়ানো হয়েছে কনটেইনার ওঠানো–নামানোর খাতে। আগে এ খাতে মাশুল ছিল ৪৩ দশমিক ৪০ ডলার, এখন তা বাড়িয়ে ৬৮ ডলার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ একক কনটেইনারে প্রায় তিন হাজার টাকা বাড়তি দিতে হবে।

ব্যবহারকারীদের আপত্তি

রপ্তানি খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, একসঙ্গে ৪১ শতাংশ মাশুল বাড়ানো হলে রপ্তানি প্রতিযোগিতায় বড় ধাক্কা লাগবে। বিজিএমইএর পরিচালক ও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম চট্টগ্রামের সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, “কাঁচামাল আমদানির সময় একবার, আবার রপ্তানির সময় আরেকবার মাশুল দিতে হয়। ফলে এক পণ্যে দুই দফায় বাড়তি মাশুল দিতে হবে। এভাবে চাপ বাড়লে রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

ভোক্তার ওপর প্রভাব

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের আমদানি–রপ্তানির প্রায় ৯৯ শতাংশ কনটেইনার পরিবহন হয়। ফলে মাশুল বাড়লে এর প্রভাব সরাসরি ভোক্তার ওপর পড়বে। বন্দরের হিসাবে, কনটেইনার পণ্যে বর্তমানে প্রতি কেজিতে মাশুল দিতে হয় ১ টাকা ২৮ পয়সা। নতুন মাশুল কার্যকর হলে প্রতি কেজিতে বাড়তি দিতে হবে গড়ে ৪৭ পয়সা। সব ধরনের পণ্যের গড়ে কেজিপ্রতি মাশুল বাড়বে ১৪ পয়সা।

অন্যদিকে সরকারের যুক্তি হলো, আশপাশের দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এখনো মাশুল কম। তাই নতুন কাঠামোতে বিদেশি অপারেটররা সুফল পেলেও দেশের স্বার্থে এ সমন্বয় প্রয়োজন।

সম্পর্কিত বিষয়

  • কনটেইনার
  • বন্দর
  • আমদানি
  • রপ্তানি
  • মাশুল

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন