চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), লালদিয়া ও বে টার্মিনালের প্রথম অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যা শিল্পায়ন, রপ্তানি ও জাতীয় অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
রোববার (১০ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরের ৪ নম্বর ফটকে নতুন এজেন্ট ডেস্ক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বন্দরের সক্ষমতা চার থেকে পাঁচগুণ বাড়ানো। এর জন্য বন্দর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি, বেস্ট প্র্যাকটিস এবং গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড যুক্ত করতে হবে।”
আরএসজিটির অভিজ্ঞতা সুখকর নয়:
আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপারেটরের অভিজ্ঞতা সীমিত। আরএসজিটির ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল সমস্যায় প্রত্যাশিত ভলিউম অর্জিত হয়নি। তবে সঠিক আর্থিক কাঠামো থাকলে বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ঝুঁকি কম থাকে।
সিডিডিএলের সাফল্য ও পারফরম্যান্স বৃদ্ধি:
তিনি সিডিডিএলের উদাহরণ টেনে বলেন, “এনসিটিতে প্রথম মাসেই কনটেইনার হ্যান্ডলিং ভলিউম ৩০ শতাংশ বেড়েছে, জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম ১৩ শতাংশ কমেছে—এটি বড় অর্জন।” তার মতে, সঠিক ব্যবস্থাপনায় বন্দরের সর্বোচ্চ সম্ভাব্য সক্ষমতা ১.৯ মিলিয়ন টিইইউস পর্যন্ত যেতে পারে।
দ্রুত প্রকল্প সমাপ্তির প্রতিশ্রুতি:
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে পাঁচ বছরের পরিকল্পনা প্রায়ই ১৫ বছরে গিয়ে শেষ হয়—এ ধারা ভাঙতে চাই। ডিসেম্বরের মধ্যে বড় পোর্টগুলোর কিছু মাইলফলক অগ্রগতি এবং চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য আছে, যাতে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কাজ থেমে না যায়।”
অটোমেশন ও প্রযুক্তির প্রসার:
বন্দর ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, নতুন সফটওয়্যার চালু হওয়ায় কাগজপত্র জমা ও পেমেন্ট এখন বাটন ক্লিকেই সম্ভব—যা সময় বাঁচাবে এবং দুর্নীতি কমাবে। এছাড়া ৫জি এমওইউ স্বাক্ষর ও ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রয়োগের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
অটোমেশন ও প্রযুক্তি সংযোজন বন্দর কার্যক্রমে অটোমেশন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, সম্প্রতি সফটওয়্যার উদ্বোধন ও ফাইভ-জি এমওইউ স্বাক্ষর করা হয়েছে, যা দুর্নীতি কমাতে এবং কার্যক্রম দ্রুত করতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রয়োগের লক্ষ্যও রয়েছে।
