মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক মোরশেদুল আলম কাদেরী এবং সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির সোহেল।
মালিক-শ্রমিকদের অভিযোগ তুলে ধরে নের্তৃবৃন্দ বলেন, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের একাধিক ধারা মালিক-শ্রমিক স্বার্থবিরোধী এবং “গলার ফাঁস”-এ পরিণত হয়েছে। আইনটিতে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন, দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড ও অতিরিক্ত জরিমানার বিধান রয়েছে, যা তারা অবাস্তব ও অমানবিক বলে মনে করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে পরিবহন খাতে কোনো ধরনের ভর্তুকি দেওয়া হয়নি বরং বাজারে যন্ত্রাংশ ও টায়ার-টিউবের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে আয়কর দ্বিগুণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিআরটিএর ফিটনেস কার্যক্রম বেসরকারি সংস্থার কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতারা।
ধর্মঘট আহ্বানকারী সংগঠনগুলোর চার দফা দাবি হলো: ১. যানবাহনের ইকোনমিক লাইফ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন স্থগিত করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পুনর্বিন্যাস। ২. মালিক-শ্রমিকদের প্রস্তাব অনুযায়ী ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের কিছু ধারা সংশোধন। ৩. বর্ধিত অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। ৪. বিআরটিএর ফিটনেস কার্যক্রম বেসরকারি সংস্থার হাতে না দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে আধুনিকায়ন ও পরিচালনা। রবিবার ধর্মঘটের আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলায় ২০ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য সব ধরনের পণ্য ও গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
এসময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দরা হলেন - গণ ও পণ্য পরিবহন নেতাদের মধ্যে একরামুল করিম, মোরশেদুল আলম কাদেরী, শওকত আলী, হুমায়ুন কবির, খোরশেদ আলম, আহসান উল্ল্যাহ চৌধুরী, ফারুক খান, নুরুল ইসলাম, আনিসুজ্জামান সোহেল, মো. শাহজাহান, রেজাউল করিম, মো. হাবীব, মোবারক হোসেন, মো. জাফর, আজিজুল হক, মো. মিজান, মহিউদ্দিন প্রমুখ। এছাড়া শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন— মৃনাল চৌধুরী, মো. মুছা, মো. অলি আহম্মদ, রবিউল মাওলা, মো. আবুল কায়ের, মো. শফি, মো. টারজেন, মো. শাহ আলম, আবদুল আজিজ, মো. রুবেল, আহম্মদ হোসেন, নজরুল ইসলাম, খলিল রহমান, মো. মনসুর, আজিম খান, কামাল উদ্দীন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, সড়ক পরিবহন আইনে মালিক ও শ্রমিক স্বার্থবিরোধী একাধিক ধারার বাতিল বা সংশোধন করা নিয়ে আন্দোলন চলমান। এছাড়া আকস্মিকভাবে ঘোষিত পরিবহনের ‘ইকোনমিক লাইফ’ মেয়াদ পুনর্বিন্যাস, আরোপিত বর্ধিত অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার এবং গাড়ির ফিটনেস কার্যক্রম কোনো বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়।
