মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

সিইউএফএল বন্ধে মাসিক ক্ষতি ১৩৫ কোটি টাকা, যন্ত্রপাতি নষ্টের শঙ্কা

রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) গ্যাস সংকটে টানা তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
সিইউএফএল বন্ধে মাসিক ক্ষতি ১৩৫ কোটি টাকা, যন্ত্রপাতি নষ্টের শঙ্কা

এতে প্রতিষ্ঠানটির বন্ধে প্রতিমাসে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১৩৫ কোটি টাকা। আর গত তিনমাসে এ ক্ষতির পরিমান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০৫ কোটি টাকা। এই বন্ধ অবস্থায়ও মাসে সাড়ে ৩ কোটি টাকা বেতন-ভাতা দিতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির ১ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীকে।

সিইউএফএল কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, “১১ এপ্রিল থেকে গ্যাস সংকটে কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ। তবু আমাদের মাসিক ব্যয় চলছে পুরোদমে। উৎপাদন না থাকলেও প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা।”

এমডি মিজানুর রহমান আরও বলেন, “এই ধরনের কেমিক্যাল কারখানায় দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে যায়। পরে মেরামতে খরচ পড়ে অনেক বেশি। বারবার গ্যাস বন্ধ থাকায় বছরেও তিন মাসের বেশি কারখানা চালু রাখা যাচ্ছে না। একটানা বছরজুড়ে উৎপাদন চালু রাখা গেলে সিইউএফএল কমপক্ষে ৩ লাখ মে. টন সার উৎপাদন করতে পারত, যা আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশের কৃষি নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখত।”

শুধু কাফকো পাচ্ছে গ্যাস, বঞ্চিত সিইউএফএ :

সিইউএফএলে গ্যাস সরবরাহ করে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)। সূত্র জানায়, সিইউএফএলের পূর্ণ উৎপাদনে দৈনিক ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। অপরদিকে, পাশেই অবস্থিত বেসরকারি অংশীদারিত্বে পরিচালিত কাফকো (KAFCO) দৈনিক ৪২–৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাচ্ছে। কিন্তু গত ১১ এপ্রিল থেকে সিইউএফএলে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। এই বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন সিইউএফএলের শ্রমিক-কর্মচারীরা।

এক সময়ের লাভজনক কারখানার এই দশা কেন ?

১৯৮৮ সালে চালু হওয়া এই সিইউএফএলের কারখানাটির স্থাপনাকালীন বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৩.৩ লাখ মে. টন অ্যামোনিয়া, ৫.৬১ লাখ মে. টন ইউরিয়া। সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছিল ১৯৯১-৯২ অর্থবছরে। কিন্তু এখন বছরে মাত্র ১ লাখ মে. টন ইউরিয়া উৎপাদন হচ্ছে—এটিও যদি গ্যাস মেলে। আর বর্তমানে উৎপাদন একদম বন্ধ। তবু সিইউএফএলের গুদামে কিছু পুরোনো উৎপাদিত সার রয়েছে ইউরিয়া ১২ হাজার মে. টন, অ্যামোনিয়া ৬–৭ হাজার মে. টন।

শ্রমিকদের শঙ্কা: ‘চাকরি থাকবে তো?’

কারখানার শ্রমিকরা বলছেন, কারখানার মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থা, গ্যাস সংকট ও অদৃশ্য ষড়যন্ত্র—সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে। পুরনো একজন কর্মচারী বলেন, “প্রতিবার কিছুদিন চালিয়ে আবার গ্যাস বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবার তো পুরো ৩ মাস হয়ে গেল, কারও কিছু করার নেই। আমরা নিজেরা জানি না চাকরি থাকবে কি না।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার যদি গ্যাস সরবরাহে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না নেয়, তাহলে সিইউএফএলের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠানও একসময় অতীত হয়ে যাবে। কারণ যে সিইউএফএল সরবরাহ করতে পারত সার, কর্মসংস্থান দিতে পারত হাজারো মানুষকে। এখন শুধু গ্যাসের অভাবে তা রুগ্ন শিল্পে পরিণত হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়

  • সিইউএফএল
  • কাফকো
  • কেজিডিসিএল
  • গ্যাস
  • অ্যামোনিয়া
  • ইউরিয়া

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন