নতুন নীতিমালায় সদিচ্ছা আছে, তবে কার্যকর বাস্তবায়ন ছাড়া এই তহবিলও হয়তো আগের মতোই থমকে থাকবে। পরের এক বছরেই বোঝা যাবে, এই উদ্যোগ কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে, না-কি দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে নতুন প্রাণসঞ্চার করবে।
নীতিমালার বৈশিষ্ট্য : নতুন তহবিলের আকার প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা, যার মধ্যে একটি স্টার্টআপ সর্বোচ্চ ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত ৪% সুদে ঋণ নিতে পারবে। আগের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ১ কোটি টাকা। এছাড়া স্টার্টআপ সংজ্ঞায় এসেছে পরিবর্তন—১২ বছরের কম বয়সী যেকোনো উদ্যোগ, এমনকি ২১ বছরের ঊর্ধ্বে উদ্যোক্তারা আবেদন করতে পারবেন। ঋণ পাওয়ার জন্য ক্রেডিট রেটিং বাধ্যতামূলক নয়, যা তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক।
আশা ও বাস্তবতা : চাল-ডাল, পাঠাও ও শপআপ-এর মতো সফল স্টার্টআপদের নেতারা নীতিমালার প্রশংসা করলেও বাস্তবায়ন নিয়ে সতর্ক করছেন। কারণ, আগের ১,০০০ কোটি টাকার তহবিল থেকেও এখন পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে মাত্র ৩৫ কোটি টাকা। মূল সমস্যা ছিল আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দক্ষ জনবলের অভাব এবং তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ : মামুন রশীদ (চেয়ারম্যান, বিডি ভেন্চার) মনে করেন, বণ্টনকারী সংস্থা নির্বাচন এবং প্রশাসনিক কাঠামো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতা না থাকলে উদ্যোগটি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।
পাঠাও’র ফাহিম আহমেদ এবং সেবা এক্সওয়াইজেডের আদনান ইমতিয়াজ বলেন, ৮ কোটি টাকার সীমা বড় স্টার্টআপদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। বরং ব্যবসার স্কেল বিবেচনায় ১০% সমমূলধন ভিত্তিতে বিনিয়োগের প্রয়োজন।
ডেকো ইশো এবং জিয়াউল হক (শপআপ) মনে করেন, তহবিলের বাস্তব ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে ব্যাংকগুলোকে বাধ্যতামূলক লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। নইলে তারা পূর্বের মতো "যোগ্য স্টার্টআপ পাইনি" বলে দায় এড়াতে পারে।
মূল চ্যালেঞ্জ: বাস্তবায়ন কাঠামো এই নীতিমালার সফলতা নির্ভর করবে—
আবেদন প্রক্রিয়া কত দ্রুত ও সহজ করা যায়,
সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেসরকারি অংশীদারিত্ব ও দক্ষ পরামর্শদাতা যুক্ত করা হয় কি না,
কিস্তিতে অর্থছাড় ও জবাবদিহির কাঠামো কতটা স্বচ্ছ হয়।
