মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিকদের ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ

অভিযোগের কেন্দ্রে বৈষম্য ও শোষণ চট্টগ্রাম বন্দরের ডক এলাকায় কর্মরত শ্রমিকরা ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিকদের ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ

অভিযোগের কেন্দ্রে বৈষম্য ও শোষণ চট্টগ্রাম বন্দরের ডক এলাকায় কর্মরত শ্রমিকরা ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ—বেতন বৈষম্য, গেট পাস জটিলতা, কমিশন বাণিজ্য, চিকিৎসা সুবিধার অভাব এবং দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্যে তাঁরা বছরের পর বছর শোষিত হয়ে আসছেন।

শ্রমিকদের প্রথম ও প্রধান দাবি—বেতন বৈষম্য অবিলম্বে দূর করতে হবে। তাঁরা জানান, একই কনটেইনারে কাজ করেও কোম্পানিভেদে মজুরি ভিন্ন। কোথাও ৩৩৩ টাকা, কোথাও ২৮০ টাকা, আবার কোথাও এক্সপ্রেস কনটেইনারে ৩৬০ টাকার স্থলে দেওয়া হয় ২৬০ টাকা। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা বলেন, “এটা কি কোনো ধরনের ন্যায্যতা?”

দীর্ঘদিন বন্দর এলাকায় কাজ করেও অনেক শ্রমিক এখনো স্থায়ী গেট পাস পাননি। ফলে তাঁদের পরিচয় ও চাকরির নিরাপত্তা অনিশ্চিত। শ্রমিকদের অভিযোগ, গেট পাস প্রদান ও কাজে অংশগ্রহণের বিনিময়ে মালিক পক্ষের লোকজন কমিশন আদায় করে থাকে। শ্রমিক মোবারক বলেন, “এই কমিশনের বেড়াজাল থেকে আমরা মুক্তি চাই, শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি চাই।”

তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, বহির্নোঙ্গরে কাজ করা শ্রমিকদের এখনো শ্রম শাখায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অথচ বন্দরের কর্মকর্তা নিয়োগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসব বোনাস পান। শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ছয় মাসের চাকরি শর্ত দেখিয়ে তাঁদের বঞ্চিত করা হয়।

একইসঙ্গে শ্রমিকদের অভিযোগ, সাইফ পাওয়ার টেক নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী গেট পাস দেয় না। বরং রেট কমিয়ে দিয়ে ও শ্রমিক স্বার্থ উপেক্ষা করে প্রতিষ্ঠানটি নানা অনিয়ম করছে। শ্রমিকরা বলেন, বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য হাসপাতাল থাকলেও শ্রমিকদের জন্য কোনো চিকিৎসাসেবা নেই। চিকিৎসার অভাবে শ্রমিক জসিমের মৃত্যুকে তাঁরা বন্দরের ব্যবস্থাপনার “চরম ব্যর্থতা” বলে অভিহিত করেন।

শ্রমিক নেতারা বলেন, ২০০৮ সালের একটি চুক্তিতে কনটেইনার আয়ের ৭৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার কথা বলা হলেও বর্তমানে সে অনুপাত মানা হচ্ছে না। ডেইলি স্লিপে লেখা থাকে ৩৮৫ টাকা, কিন্তু প্রকৃত মজুরি থেকে বড় অংশ গায়েব হয়ে যায়। শ্রমিকদের গেট পাসে মালিকের নাম থাকায় তাঁদের স্বতন্ত্র পরিচয়ও প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে না।

শ্রমিকদের ৬ দফা দাবিগুলো হলো:

১. সকল শ্রমিক-কর্মচারীর মধ্যে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য নিরসন ২. দীর্ঘদিন কাজ করা শ্রমিকদের স্থায়ী গেট পাস প্রদান ৩. বহির্নোঙ্গরের শ্রমিকদের শ্রম শাখায় অন্তর্ভুক্তি ও পরিচয়পত্র প্রদান ৪. উৎসব বোনাসে শ্রমিকদের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা ৫. ভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত শ্রমিকদের দ্রুত শ্রম শাখায় অন্তর্ভুক্তি ও তালিকা প্রকাশ ৬. দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের অপসারণ ও শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ গঠন

বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন ডক বন্দর শ্রমিক-কর্মচারি অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ পারভেজ এবং সদস্য সচিব মো. শামিম। শ্রমিকদের পক্ষে বক্তব্য দেন আবুল কালাম মিয়া, মো. আবুল আলম ও মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন বন্দরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।

সম্পর্কিত বিষয়

  • চট্টগ্রাম বন্দর
  • শ্রমিক
  • সাইফ পাওয়ার টেক

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন