কোথাও এক দশক আগে কেনা যন্ত্রপাতির মোড়ক পর্যন্ত খোলা হয়নি, আবার কোথাও ব্যয়বহুল যন্ত্র স্থাপন করা হলেও প্রশিক্ষিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, রিএজেন্ট কিংবা এক্স-রে প্লেটের অভাবে সেগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে স্বাস্থ্যখাতে বিপুল সরকারি বিনিয়োগের পরও সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শনিবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে স্বাস্থ্যখাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও পরিকল্পনার ঘাটতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সেই বিনিয়োগের প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায়নি। প্রয়োজন বিবেচনা না করেই বহু ব্যয়বহুল চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে, কিন্তু সেগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়নি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় ১০ বছর আগে কেনা যন্ত্রপাতির মোড়কও খোলা হয়নি। কোথাও আধুনিক যন্ত্র রয়েছে, কিন্তু তা পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নেই। আবার কোথাও প্রয়োজনীয় রিএজেন্ট, এক্স-রে প্লেট বা অন্যান্য উপকরণের অভাবে যন্ত্রপাতি অচল হয়ে আছে। এ ধরনের অব্যবস্থাপনার কারণে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি রোগীরাও উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতের সংকট কেবল নতুন ভবন নির্মাণ বা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দূর করা সম্ভব নয়। কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনা। চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সমন্বিত টিম ছাড়া আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের উদাহরণ তুলে ধরে ড. মুহিত বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের প্রায় ২০০টি পদ শূন্য রয়েছে। অথচ ২ হাজার ২০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে বেসিক সায়েন্স বিষয়ের শিক্ষকেরও তীব্র সংকট রয়েছে, যা চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যাও এখনও অপর্যাপ্ত। তাই স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে কার্যকর ও টেকসই করতে দ্রুত চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামো ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা সরঞ্জামের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক জসীম উদ্দিনসহ স্বাস্থ্যখাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
