একের পর এক বিদেশি জাহাজে হানা, লুট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার মালামাল, ঝুঁকিতে পড়ছে নাবিকদের জীবনও|
বুধবার নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে এই আবেদন করেছে সিসিসিআই|
চিঠিতে বলা হয়, গত কয়েক মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে একাধিক বিদেশি জাহাজে জলদস্যুতার ঘটনা ঘটেছে| এসব ঘটনায় কোটি কোটি টাকার মালামাল লুট হওয়ার পাশাপাশি জাহাজের নিরাপত্তা ও নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে| এতে বিদেশি জাহাজের মালিক, শিপিং এজেন্ট ও আমদানিকারকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ˆতরি হয়েছে বলে জানিয়েছে চেম্বার|
চিটাগাং চেম্বার জানায়, দেশের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়| ফলে বহির্নোঙরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে| একই সঙ্গে বিদেশি শিপিং অপারেটরদের মধ্যে ঝুঁকির ধারণা বাড়বে, বীমা ব্যয় বাড়বে এবং ˆবদেশিক বাণিজ্যের খরচও বেড়ে যাবে বলে সতর্ক করেছে চেম্বার|
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা রিজিওনাল কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট অন কমব্যাটিং পাইরেসি অ্যান্ড আর্মড রবারি এগেইনস্ট শিপস ইন এশিয়া (রিক্যাপ)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে জলদস্যুতা ও ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে| এতে বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ˆতরি হয়েছে|
এই পরিস্থিতিতে চিটাগাং চেম্বার বহির্নোঙরে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর টহল জোরদার, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে|
চেম্বার সভাপতি মো. আমিরুল হক বলেন, বহির্নোঙরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু শিপিং শিল্পের স্বার্থেই নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ|