রবিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি জানান, শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে আগুন লাগার পর একে একে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট কাজ শুরু করে এবং শনিবার রাত ৯টা ১৮ মিনিটে আগুন আংশিক নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রবিবার বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়।
আগুন নেভাতে সময় লাগার কারণ হিসেবে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ সময় লাগার পাঁচটি প্রধান কারণ ছিল-
১। বহুল দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি (কমবাসেবল ম্যাটেরিয়াল) ২। স্টিল স্ট্রাকচারের কারণে তাপ শোষণ ও দীর্ঘস্থায়ী উত্তাপ ৩। অপরিষ্কার, গাদাগাদি ও সরু পরিবেশ ৪। কোনো কার্যকর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা ও ৫। ছোট ছোট স্টিলের কক্ষে বিভক্ত কাঠামোতে প্রবেশের জটিলতা।
তাজুল ইসলাম জানান, “এখানে অ্যাকটিভ বা প্যাসিভ কোনোটিই ছিল না — না ছিল আগুন শনাক্ত করার অ্যালার্ম, না ছিল স্বয়ংক্রিয় স্প্রিংকলার সিস্টেম। এগুলো থাকলে হয়তো এত বড় দুর্ঘটনা হতো না।”
দুর্ঘটনার প্রাথমিক চিত্রে দেখা যায়- ধোঁয়ার উপস্থিতি এখনো বিদ্যমান। স্টিল কাঠামো অতিরিক্ত তাপ ধারণ করায় ধোঁয়া এখনও দেখা যাচ্ছে, তবে আগুনের কোনো শিখা নেই।
ক্ষয়ক্ষতি হিসেবে আগুনে বিভিন্ন আমদানি পণ্য পুড়ে গেছে, যার আর্থিক ক্ষতির হিসাব নিরূপণে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।
আহত হয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের ২ জন সদস্য ও আনসারের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। বড় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
ভবনের ঝুঁকি ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় দেখা যায়- আগুনের অতিরিক্ত তাপে ভবনের কয়েকটি কলামে ফাটল দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিস ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষকে জরিপ করার পরামর্শ দিয়েছে।
বাড়তি আশঙ্কা হিসেবে বলা হয়েছে, ভেতরে থাকা ওষুধ এবং বাইপ্রোডাক্ট থেকে কিছু রাসায়নিক উপাদান নির্গত হয়েছে, তবে তেজস্ক্রিয়তা বা মারাত্মক পরিবেশগত প্রভাব নেই বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর, ঢাকা কাস্টম হাউজ সাময়িকভাবে যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ এলাকার (জিএসই) মাধ্যমে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা নিয়েছে। এছাড়া নয় নম্বর ফটকে কায়িক পরীক্ষা ও শুল্কায়নের জন্য এসাইকোডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য।
কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে আছেন মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী (যুগ্ম সচিব), সদস্য রইচ উদ্দিন খান, মো. তারেক হাসান, মুহাম্মদ কামরুল হাসান এবং আছেন সদস্য সচিব পঙ্কজ বড়ুয়া।
