মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

গ্রাহকের টাকায় বেহিসাবি ব্যয়: ৪৩ বিমা কোম্পানির অতিরিক্ত খরচ ৮৩৩ কোটি টাকা

সময়মতো গ্রাহকের দাবি পরিশোধে ব্যর্থ হলেও নিজেদের খরচে কার্পণ্য করছে না দেশের বিমা কোম্পানিগুলো।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
গ্রাহকের টাকায় বেহিসাবি ব্যয়: ৪৩ বিমা কোম্পানির অতিরিক্ত খরচ ৮৩৩ কোটি টাকা

২০২৪ সালে অনুমোদিত সীমার বাইরে গিয়ে ৪২টি বিমা কোম্পানি মোট ৮৩৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে, যার বড় অংশই লোপাট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) তথ্য অনুযায়ী— ২০টি জীবনবিমা কোম্পানি খরচ করেছে ১৫৯ কোটি টাকা বেশি। ২২টি সাধারণ বিমা কোম্পানি অতিরিক্ত ব্যয় করেছে ৬৭৪ কোটি টাকা।

কোম্পানিগুলো কমিশন প্রদান, উন্নয়ন সভা, বাড়িভাড়া, বেতন, বিজ্ঞাপন, দেশ-বিদেশ ভ্রমণ, গাড়ি কেনা ও মেরামত, জ্বালানি, আপ্যায়নসহ নানা খাতে এ ব্যয় দেখিয়েছে।

অতিরিক্ত ব্যয়ের তালিকায় শীর্ষে- জীবনবিমার মধ্যে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স (৪৫ কোটি টাকা বেশি ব্যয়)। দ্বিতীয় স্থানে সরকারি জীবন বীমা কর্পোরেশন (২০ কোটি ৭০ লাখ টাকা বেশি ব্যয়)। সাধারণ বিমায় গ্লোবাল ইনস্যুরেন্স সবার ওপরে (১১৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়)।

এরপর রয়েছে মার্কেন্টাইল ইসলামী ইনস্যুরেন্স (৯৩ কোটি ৮ লাখ), বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ইনস্যুরেন্স (৯১ কোটি ৫৩ লাখ) প্রভৃতি।

চার্টার্ড লাইফের সাবেক সিইও এস এম জিয়াউল হক বলেন, অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতার কারণেই এ অনিয়ম।

অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক মনে করেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ছাড়া খাতের ভাবমূর্তি ফেরানো যাবে না।

পাইওনিয়ার ইনস্যুরেন্সের সিইও সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান বলেন, নিয়মিত অডিট চালু করলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জাহীদ বলেন, বিমা খাতে নৈতিক বিপত্তি, তথ্যের ঘাটতি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতা—এই তিন সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

আইডিআরএর মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের মতো এবারও (২০২৪) সীমা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২২টি কোম্পানি অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের নামে লুটপাট করেছে। এসব কোম্পানির মধ্যে অগ্রণী ইনস্যুরেন্স ৩ কোটি ৩৭ শতাংশ, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল দশমিক ৮৭ শতাংশ, বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ৯১ দশমিক ৫৩ শতাংশ, বাংলাদেশ জেনারেল ৩৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ, সেন্ট্রাল ইনস্যুরেন্স ৮ দশমিক ৪২ শতাংশ, দেশ জেনারেল ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ, ঢাকা ইনস্যুরেন্স ২০ দশমিক ২৬ শতাংশ, এক্সপ্রেস ইনস্যুরেন্স ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ, গ্লোবাল ইনস্যুরেন্স ১১৫ শতাংশ, ইসলামী ইনস্যুরেন্স বাংলাদেশ ৩৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ, ইসলামী কমার্শিয়াল ইনস্যুরেন্স ৬৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ইসলামী ৯৩ দশমিক ৮ শতাংশ, নিটল ইনস্যুরেন্স ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ, পিপলস্ ইনস্যুরেন্স ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ, প্রাইম ইনস্যুরেন্স ১ দশমিক ৪২ শতাংশ, প্রভাতি ইনস্যুরেন্স ২ দশমিক ৬ শতাংশ, রিপাবলিক ইনস্যুরেন্স ২১ দশমিক ৯২ শতাংশ, রূপালী ইনস্যুরেন্স ১ দশমিক ৬১ শতাংশ, সোনার বাংলা ইনস্যুরেন্স দশমিক ৬৬ শতাংশ, সাউথ এশিয়া ইনস্যুরেন্স দশমিক ৮৯ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ইনস্যুরেন্স ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ, তাকাফুল ইসলামী ইনস্যুরেন্স ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ অতিরিক্ত ব্যয় করেছে।

সম্পর্কিত বিষয়

  • বিমা কোম্পানি
  • আইডিআরএ

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন