কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ ৬২৭ কোটি ডলার থাকলেও আগস্টে তা কমে ৫২২ কোটি ডলারে নেমেছে। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত আমদানি আরও কমে ৪৬৭ কোটি ডলারে স্থির থাকতে পারে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বৃহৎ শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ায় এবং মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় নতুন বিনিয়োগ কার্যত বন্ধ রয়েছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণে’র নীতি গ্রহণ করেছেন জানিয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান বলেন, “এখন অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। বিনিয়োগ তেমন হচ্ছে না। সবাই ভাবছে আগে নির্বাচন হোক, তারপর পরিবেশের ওপর নির্ভর করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেবে। কারণ ব্যবসায়ীরা এখনো আস্থা ফিরে পাননি। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না আসা পর্যন্ত এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।”
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আমদানির ধারাবাহিক পতন অর্থনীতির স্থবিরতার স্পষ্ট সংকেত। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, “জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আমদানির পরিমাণ প্রায় ২৬ শতাংশ কমার প্রক্ষেপণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মন্দা ভাবকে ইঙ্গিত করছে।
আগামী প্রান্তিকে অর্থনীতির গতি আরও মন্থর হওয়ার ঝুঁকি প্রবল। বিনিয়োগ পুনরুজ্জীবিত করতে স্বল্পমেয়াদি কর-সুবিধা, সহজ ঋণ এবং কাঁচামাল ও শিল্প যন্ত্রাংশ আমদানিতে সহায়ক নীতি গ্রহণের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াতে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন তিনি।”
