সোমবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর এ দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেন সংগঠন দুটির প্রতিনিধি।
স্মারকলিপি প্রদান করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাৎ ফরাজী সাকিব এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি পাইশিখই মারমা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান মিলিয়ে মোট আয়তন ১৩ হাজার ২৯৫ বর্গকিলোমিটার, যা দেশের এক–দশমাংশ। তিন জেলায় মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ ৪৩ হাজার। এত বিশাল আয়তন ও জনগোষ্ঠীর জন্য মাত্র তিনটি সংসদীয় আসন পর্যাপ্ত নয়। এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকারও সীমিত হয়ে পড়ছে।
তারা জানান, খাগড়াছড়ির আসন সংখ্যা ১ থেকে ২-এ, রাঙামাটি ১ থেকে ৩-এ এবং বান্দরবান ১ থেকে ২-এ উন্নীত করার দাবি জানানো হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সভাপতি শাহাদাৎ ফরাজী সাকিব বলেন, “প্রায় ১৯ লাখ মানুষের রাজনৈতিক অধিকার অক্ষুণ্ন রাখতে হলে আসন বৃদ্ধি জরুরি। বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রথমেই পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি পাইশিখই মারমা বলেন, “সমতলের মানুষ যে সুযোগ-সুবিধা পায়, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ তা পায় না। তিনটি আসন থেকে আটটিতে উন্নীত করাই আমাদের ন্যায্য দাবি।”
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, ঝালকাঠি-১ আসনে (রাজাপুর-কাঠালিয়া) ভোটার সংখ্যা মাত্র ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৫ জন, যা বান্দরবানের তুলনায়ও কম। অথচ সেখানে একজন সাংসদ রয়েছেন। ঢাকা-৪, খুলনা-৩, ময়মনসিংহ-৩সহ বেশ কিছু আসনের জনসংখ্যা ও আয়তনও পার্বত্য জেলার তুলনায় কম।
উল্লেখ্য, সোমবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের দাবি-আপত্তির শুনানি হয়। দুপুরে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আওতাধীন চট্টগ্রাম-৩, ৫, ৮, ১৯ এবং পার্বত্য তিন জেলার আসনসংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
