মূল সংবাদে যান
রাজনীতি

বন্দর আয়ের ৩০ শতাংশেই সিঙ্গাপুর হবে চট্টগ্রাম

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, নিজস্ব রাজনৈতিক রূপরেখা এবং ‘বাংলাদেশ ২.০’ নামে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে গিয়ে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে এবি পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী জাতীয় নির্বাহী সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিদ্দিকুর রহমান জানালেন,

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
বন্দর আয়ের ৩০ শতাংশেই সিঙ্গাপুর হবে চট্টগ্রাম

“চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলেও এই নগরী দীর্ঘদিন ধরে তার ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত।যদি বন্দরের রাজস্ব আয়ের ৩০ শতাংশ চট্টগ্রামের উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাহলে এই শহরকে সিঙ্গাপুরের মতো করে গড়ে তোলা সম্ভব। জনগণ যদি আমাদের সুযোগ দেয়, তাহলে আমরা এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করে চট্টগ্রামকে একটি নতুন পরিচয় দিতে পারব।"

এবি পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, চট্টগ্রামের সমস্যাগুলো স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য একটি স্বতন্ত্র সিটি গভর্নমেন্ট ও সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। কেন্দ্রীয় দপ্তরের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে সমস্যার সমাধান বিলম্বিত হয়। নগরের দীর্ঘদিনের দুই প্রধান সমস্যা হলো জলাবদ্ধতা ও যানজট।

তার মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও খাল পুনরুদ্ধার জরুরি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের পাশাপাশি চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করতে হবে। যানজট কমাতে ট্রাফিক সিগন্যাল স্বয়ংক্রিয় করা হবে, ফুটপাত দখলমুক্ত এবং জনবহুল এলাকায় আলাদা পার্কিং জোন তৈরি করা হবে।

চট্টগ্রামের আশীর্বাদ কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে পর্যটনের স্বপ্ন বদলে দিতে পারে পুরো নগরীকে। কর্ণফুলীর পাড়ে পার্ক, ওয়াকওয়ে, বোট সাফারির মতো উদ্যোগ নেওয়া গেলে এটি চট্টগ্রামের একটি নতুন ট্যুরিজম হটস্পট হয়ে উঠতে পারে। ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসা প্রসারিত হবে।

‘বাংলাদেশ ২.০’ লক্ষ্যের অংশ হিসেবে তরুণদের দক্ষ করে তোলার ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়ে ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, “আমাদের তরুণরা অত্যন্ত মেধাবী। চট্টগ্রামকে একটি ‘আন্তর্জাতিক ট্রেড কানেক্টিভিটি হাব’ ও ‘আইটি সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তাদের জন্য আইটি পার্ক, ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ন্যানো টেকনোলজির মতো আধুনিক প্রযুক্তি শেখার সুযোগ তৈরি করতে পারলে তারা বিশ্বজয় করবে। স্কুলে এআই-ভিত্তিক পড়াশোনা চালু করা গেলে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সহজে টিকে থাকতে পারবে।

নাগরিক সেবা ও নিরাপত্তার বিষয়ে ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রতিটি নাগরিক যেন নিরাপদ জীবন পায়, সে লক্ষ্যেই সিসিটিভি, কমিউনিটি পুলিশিং এবং ‘গ্রীন সেবা কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করতে হবে।

নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সহজ শর্তে ঋণ, শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও খেলার মাঠ, এবং বস্তিবাসী ও রিকশা-সিএনজি চালকদের জন্য আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। চট্টগ্রামের পাহাড় পুনরুদ্ধার এবং সবুজায়নই আগামী প্রজন্মের জন্য টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

সম্পর্কিত বিষয়

  • চট্টগ্রাম বন্দর
  • সিঙ্গাপুর
  • অর্থনীতি
  • জাতীয় নির্বাচন
  • সিটি গভর্নমেন্ট
  • জলাবদ্ধতা
  • যানজট
  • কর্মসংস্থান

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন