চট্টগ্রাম নগরী পরিণত হয় এক বর্ণাঢ্য আনন্দমেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উপলক্ষে তিনটি কেন্দ্রীয় মন্দিরসহ প্রায় এক ডজনের বেশি স্থান থেকে রথ বের হলে নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। রথযাত্রায় অংশ নিতে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন, ধর্মীয় আবেগে মুখর হয়ে ওঠে বন্দরনগরী।
শুক্রবার (২৭ জুন) নন্দনকাননের তুলসীধাম ও রাধামাধব মন্দির এবং প্রবর্তকের ইসকন শ্রীকৃষ্ণ মন্দির থেকে রথযাত্রা শুরু হয়। রথ টানতে, বাদ্যবাজনা, উলুধ্বনি ও ধর্মীয় সংগীতের সঙ্গে অংশ নেন বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণিপেশার নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোররা।
ঐতিহ্যের গল্প ও ধর্মীয় তাৎপর্য
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কৃষ্ণ, বলরাম ও সুভদ্রা দেবী একবার ভ্রমণে বেরিয়ে গুন্ডিচা মন্দিরে অবস্থান করেছিলেন সাত দিন। সেই স্মৃতিকে স্মরণ করেই প্রতিবছর রথে করে নগরভ্রমণের এ আয়োজন হয়ে থাকে। বলরামের রথ থাকে সামনে, সুভদ্রার রথ মাঝখানে এবং জগন্নাথের রথ থাকে পেছনে।
তুলসীধামের কেন্দ্রীয় রথযাত্রা
তুলসীধামের শোভাযাত্রার সূচনা হয় ঢোলবাদ্য ও মঙ্গলঘোষে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে বেলুন উড়িয়ে ও রথের রশি টেনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রার উদ্বোধন করেন। রথটি নিউমার্কেট, লালদীঘি, চেরাগী পাহাড়, প্রেসক্লাব হয়ে নন্দনকাননে গিয়ে শেষ হয়।
মেয়র শাহাদাত বলেন, “চট্টগ্রাম সাম্য, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের প্রতীক। চট্টগ্রামের রথযাত্রা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়—এটি একটি সামাজিক মিলনমেলা, যেখানে সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং নাগরিক অংশগ্রহণ মিলেমিশে একাকার হয়ে ওঠে।রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে নগরের উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
নানামুখী আয়োজন ও ধর্মীয় কার্যক্রম
রথযাত্রা উপলক্ষে তুলসীধামে দিনব্যাপী নামযজ্ঞ, পূজা ও মহাপ্রসাদের আয়োজন হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন—মোহন্ত দেবদীপ পুরী, গোবিন্দ ব্রহ্মচারী, বিধান ধর, সুজিত হাজারী, প্রণব ও প্রণত মিত্র চৌধুরীসহ স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা।
নগরজুড়ে রথের পরিক্রমা
কেন্দ্রীয় রথ ছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থান—হাজারী লেইন, গঙ্গাবাড়ি, সদরঘাট, ফিরিঙ্গীবাজার, এনায়েত বাজার, ইপিজেডসহ অন্তত ১৫টি মন্দির ও আশ্রম থেকে রথ বের হয়। প্রতিটি রথযাত্রায় ছিল আলাদা রঙ, সাজসজ্জা ও আধ্যাত্মিক আবহ।
ইসকনের ৯ দিনের ধর্মীয় উৎসব
প্রবর্তক ইসকন মন্দিরে ৯ দিনব্যাপী উৎসব শুরু হয়েছে ভোরে মঙ্গল আরতির মাধ্যমে। বিকেলে পালকি, ঘোড়ার বহর ও পৌরাণিক সাজে সজ্জিত রথযাত্রা বের হয়। হাজারো ভক্ত রথের রশিতে টেনে তাঁদের অংশগ্রহণ জানান দেন।
